রামকৃষ্ণ মিশনে ডাকাতি মামলায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

muktijuddho shongshod
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের রামকৃষ্ণ মিশনে ডাকাতির মামলায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এ মামলায় ৮ জনকে অব্যহতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।
অভিযুক্ত আসামিরা হলো, শহরের বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার মানিক মুন্সির ছেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ট্যাবলেট সোহেল ওরফে চোর সোহেল, দ্বীন মোহাম্মাদের ছেলে লিটন, মৃত হামিদ মিয়ার ছেলে মুরাদ খান রাহাত, বেজপাড়া কবরস্থান এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে ময়না, আশ্রম রোডের আব্দল মজিদের ছেলে নজরুল ইসলাম নজু ও মুড়লী আমতলা এলকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে বাবু ওরফে কিনা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩ জুন রাত ২ টা ১৫ মিনিটের সময় ১০/১২ জনের একদল ডাকাত সশস্ত্র অবস্থায় মন্দিরের পূর্ব দিকের দেয়াল টপকায়ে ভিতরে প্রবেশ করে। তাদের পরনে ফুল প্যান্ট, গেঞ্জি এবং কারো কারো মুখে দাড়ি ছিল। নাইটগার্ড আবু বক্কারের জীবন নাশের হুমকি দিয়ে হাত, মুখ বেধে বিবেকানন্দ মন্দিরের কক্ষের পিছনে পুকুর পাড়ে একটি বাথ রুমের কাছে রেখে দু’জন ডাকাত পাহারা দেয়।
অন্য ডাকাতরা স্বামী গোপাল ভবনের দরজার কড়া ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। সেখানে দু’টি দান বক্সে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন, বালা ও মুকুটসহ ৪ ভরি অলংকার নিয়ে নেয়।
এর পর স্বামী বিকেকানন্দ ভবনের নিচতলা অফিস রুমের দরজার কড়া ভেঙ্গে টেবিলের ড্রয়ার ভেঙ্গে নগদ ২ হাজার টাকা নেয় এবং কাগজ পত্র তছনছ করে।
তারপর সৎবিদ্যানন্দের কক্ষের দরজার কড়া ভেঙ্গে নগদ ৫০ হাজার টাকা একটি মোবাইল ও একটি হাত ঘড়ি নিয়ে নেয়। সর্ব শেষে ডাকাতরা আতœবিভানন্দের কক্ষের দরজার কড়া ভাঙ্গার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে দরজায় লাথি মারে এবং তাকে গালি দেয়। ডাকাতরা সর্ব মোট নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে পূর্ব দিকের দেয়াল টপকায়ে চলে যায়।
প্রায় ঘন্টাব্যাপি ডাকাতির ঘটনায় ওই মন্দিরের সভাপতি আতœবিভানন্দ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে থানা পুলিশকে অবহিত করে।
এ ব্যাপারে ঘটনার পরদিন মন্দিরের সভাপতি গোবিন্দ লাল সাহা কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে নাইটগার্ড আবু বক্কার সিদ্দিকী ও মামুন নামের দু’জনকে আটক করেছিল।
এ মামলার তদন্ত শেষে ডাকাতির সাথে জড়িত থাকায় ওই ছয় জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ ছাড়া ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় আটক মামুন, আবু বক্কার সিদ্দিক, শহিদুল, হোসেন আলী, মোবারক আলী, ডলার, সুমন ও জাহিদুল ওরফে চশমা সাগরের অব্যহতির আবেদন করা হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে ট্যাবলেট সোহেল ও লিটন পলাতক রয়েছে। বাকি আসামিরা জেল হাজতে আটক রয়েছে।

শেয়ার