পটল চাষে বদলে গেছে সাতক্ষীরার তলুইগাছা গ্রামের অনেক পরিবারের ভাগ্য

potol chas
আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা ॥ গ্রামের নাম তলুই গাছা। সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে এই গ্রামের অবস্থান। একদম ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা। সীমান্তবর্তী এ গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ হতেই পারে অবৈধ কারবারে জড়িত কিন্তু না । শতাধিক পরিবার ভাগ্য বদলেছেন পটলের চাষ করে। চোরাচালান ছেড়ে ভীঁড়েছেন অল্প পুজির এ চাষে। লাভবানও হচ্ছেন চাষী। অবৈধ কারবার ছেড়ে দেয়ায় অনেক পরিবারে ফিরেছে স্বস্তি-শান্তি। নেই গুলিতে মরা বা সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে পিটুনি বা গ্রেফতারের ভয়। এই গ্রামের পটল যাচ্ছে খুলনা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। কর্মসংস্থান বেড়েছে অনেক বেকার যুবকের। বলা বাহুল্য পাল্টে গেছে এই গ্রামের রূপ-চেহারা। নাগরিক জীবন-যাপনেও পড়েছে স্বাচ্ছল্যতার ছাপ। বেশ ভালো, অনেক ভালো এ গ্রামের মানুষ। বিভিন্ন মহলে এমন আলোচনা হরহামেশাই হচ্ছে। জানতে পেরে সরেজমিনে গিয়ে মিলেছে তার সত্যতাও।
গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ, আলী হোসেন, লাল্টুসহ অনেকে জানালেন তাদের পটল চাষের কথা। তারা জানালেন মাঘ মাস থেকে শ্রবণ মাস পর্যন্ত পটল চাষ হয়। এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করতে খরচ লাগে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি জমি থেকে ১ লাখ টাকার বেশি পটল বিক্রি করা সম্ভব হয়। গ্রামের শহিদুল মোল্যা জানালেন তার ৮ কাঠা জমিতে পটল আছে । ইতিমধ্যে ৪০ হাজার টাকার পটল বিক্রি হয়ে গেছে । এখনও সামনে দু’মাস রয়েছে। পটল বিক্রির টাকা আসবে তার পকেটে। কৃষকরা আরও জানান এক সময় ভারত থেকে বীজ এনে তারা পটল চাষ শুরু করেন। সরকারি ভাবে তাদের পটল চাষে কোন প্রকার সহযোগিতা করা হয়নি। চাষীরা এখনো কৃষি বিভাগের কারোর চেনেন না। প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন কিন্তু এ ইউনিয়নটিতে কেউ আছে বলে জানা নেই তাদের। সরকারি পৃষ্ট-পোষকতা পেলে সীমান্তের অনেক গ্রামের মানুষের অবৈধ কারবার থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও মনে করেন এ গ্রামের পটল চাষীরা। পটল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান, আব্দুর রহমান, ও জামাত আলী জানালেন এবার পটল ব্যবসায় তাদের বেশি লাভ হয়েছে। তারা ১৮ টাকা থেকে শুরু করে ১০৫ টাকা পর্যন্ত পটল কিনেছেন। এই পটল সাতক্ষীরার বড় বাজার, খুলনার দৌলতপুর, সোনাগাছি ,ঢাকার কারওয়ান বাজার বিক্রি করে রোজগার করেছেন। পিকআপ ও ট্রাকে করে তারা এসব পটল দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পেরেছেন। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পটল নিয়ে যাওয়ার সময় পথে পথে ট্রাফিক পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা আদায় করা হয়। যার পরিমান ২০ টাকা থেকে ২শ টাকা পর্যন্ত । ফলে ক্ষতিরমুখে পড়তে হয় তাদের। তাদের দাবী পটল বোঝায় গাড়ি থেকে যেন আর চাঁদা আদায় করা না হয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১নং বাঁশদহা ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃসি অফিসার মাহমুদ হোসেন জানান, তার ইউনিয়নে পর্যাপ্ত পরিমান পটলের চাষ হয়েছে। পটলের দামও ভাল। অনেকে পটল চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন এনেছেন। অথচ চাষিদের বক্তব্য কে এই কৃষি কর্মকর্তা তাকে চেনা তো দুরের কথা কখনো চেহারাও দেখেননি। উনি ঢালাও বক্তব্য দিয়ে বাহনা নেয়ার চেস্টা করছেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার রায় জানান, এবার সদর উপজেলায় ১৮০ হেক্টর জমিতে পটল চাষ হয়েছে। চাষীরা হাতে পরাগায়ন, আদ্রতা সংরক্ষণ, গুটি ইউরিয়া সার ব্যবহার করায় ফলন বেড়ে গেছে অনেক গুন। সরকারি পৃষ্টপোষকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন চাষিরা শুরু করেছেন স্ব-উদ্যোগে, সরকারী সুযোগ-সুবিধা তারা পাবেন।

শেয়ার