নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার মামলার আসামি হাসু যশোরে গ্রেপ্তার

hasu
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনের লাশ পাওয়ার ১৩ দিন পর এই হত্যাকাণ্ডের এক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার হাসমত আলী হাসুকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ঢাকার বিভিন্ন মিডিয়া খবর প্রকাশ করেছে। তবে যশোরের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউই যশোর থেকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে হাসুকে আটকের স্থান নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। হাসু সেভেন মার্ডার মামলার তিন নম্বর আসামি। নিহত নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলামের সৎ ভাই হাসুকে প্রধান আসামি নূর হোসেনের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে চেনে এলাকাবাসী।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, হাসুকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের এজাহারভুক্ত প্রথম আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা মুখ খোলেননি।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞাও সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় বলেন, হাসু গ্রেপ্তারের কোনো খবর জেলা প্রশাসনের কাছে নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারায়ণগঞ্জের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, যশোর সীমান্ত থেকে হাসুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার মামলার অন্যতম আসামি হাসমত আলী হাসুকে যশোরের কোনো আইনশৃংখলা বাহিনী গ্রেফতার করেনি।যশোরের পুলিশ সুপার, বিজিবি কমান্ডার ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের দাবি জেলার কোনো আইনশৃংখলা বাহিনী হাসুকে গ্রেফতার করেনি। তাই হাসমত আলী হাসুকে যশোর থেকে গ্রেফতারের খবরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান ‘যশোরের পুলিশ বাহিনী তাকে গ্রেফতার করেনি। বিজিবি ২৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান বলেন ‘বিজিবি হাসু নামে কাউকে আটক করেনি। আটক করলে তো আমরা সাংবাদিকদের আগেই জানিয়ে দিতাম। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের সাথে কথা হয়েছে। তিনিও জানিয়েছেন আটকের কোন খবর নেই।’ র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ‘আমরা হাসুকে গ্রেফতার করিনি।’
এদিকে, এ মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন কলকাতায় পালিয়ে গেছেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে। নজরুলের শ্বশুর শহীদুল আবার তার পালিয়ে যাওয়ার জন্য র‌্যাবকেই দায়ী করেছে, যদিও এই বাহিনী তা অস্বীকার করেছে।
মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বুধবার সারাদিনে হাসুকে কোনো আদালতে পাঠায়নি পুলিশ। আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে। হাসুর বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জের মিজিমিজি পশ্চিমপাড়ায়, নিহত নজরুলের বাড়িও একই এলাকায়। শহীদুল জানান, জামাতা অপহরণের পর তাকে পাওয়ার জন্য তিনি সৎ ভাই হাসুর দ্বারস্তও হয়েছিলেন, কিন্তু সাড়া পাননি।
গত ২৭ এপ্রিল নজরুলসহ সাতজন অপহৃত হওয়ার পর তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি যে মামলা করেছেন, তাতে আসামি হিসেবে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। লাশ পাওয়ার পর ওই মামলাটি হত্যামামলায় রূপান্তরিত হয়।
তাদের মধ্যে হাসু ছাড়া অন্যরা হলেন- কাউন্সিলর নূর হোসেন, ইয়াসিন মিয়া, আমিনুল ইসলাম রাজু, আনোয়ার আসিফ ও ইকবাল হোসেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূর হোসেনের মতো সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিনও বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর দুজনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
নজরুলের সঙ্গে নিহত আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের পরিবার আরেকটি মামলা করেছে, যাতে আসামি হিসেবে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।
সাত খুনের মামলায় এর আগে ২২ জনকে আটক করা হলেও তাদের কেউ মামলার আসামি নন। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে হাসুই প্রথম গ্রেপ্তার হলেন।
অন্য যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সাতজনকে হত্যামামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন জানিয়েছেন। বাকিদের ৫৪ ধারায় আটক দেখানো হয়।
এই হত্যাকাণ্ডে র‌্যাব-১১ এ থাকা সামরিক বাহিনীর তিন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নজরুলের শ্বশুর তোলার পর হাই কোর্ট তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে।
তারা হলেন-লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানা।
অপহরণের পর তাদের নারায়ণগঞ্জ থেকে সরিয়ে আনা হয়, পরে তাদের অবসরে পাঠানো হয়।
হাই কোর্টের আদেশের পর তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

শেয়ার