নাটক মঞ্চায়ন ও চায়ের কাপে বেকারদের ভাগ্য বদলের গল্প

dhaka ahsania misson
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করতে তাদের খোঁজেই বের হয়েছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের সামাজিক উন্নয়ন ইউনিট। তবে খোঁজটা একেবারে সাটামাটাভাবে নয়; বেকারদের জন্য সুখবর দিতে ‘আসবে সুখের দিন’ নাটক মঞ্চস্থ আর চায়ের দোকানে আড্ডার মাঝে তাদের ভাগ্যে বদলের খবর জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের মধ্যেই হাজারো যুবক যুবতীর খুঁজে পাচ্ছে তাদের স্বনির্ভর হওয়ার ঠিকানা।
মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় সংস্থার কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
শহরের আরবপুর কার্যালয়ে প্রকল্পের সমন্বয়কারী মোস্তাগিসুর রহমান বাবু জানান, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অনেকাংশে নির্ভর করে সুবিধাবঞ্চিত বিপুল সংখ্যক যুব সম্প্রদায়ের উন্নয়নের উপর। এসব বেকাররা কাজ না পেয়ে হতাশায় ডুবে কপাল চাপড়ায়। এজন্য সামাজিক উন্নয়ন ইউনিট যুবকদের দক্ষ করে কর্মসংস্থান এবং স্বনির্ভর করতে পাড়ায় পাড়ায় ছুটে চলেছে। তারা যুব সমাবেশ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাথে মতবিনিময়ের পাশাপাশি দুটি ব্যতিক্রমি কাজ করে চলেছেন। তিনি বলেন, বেকার এবং তাদের অভিভাবকরা গ্রামের মোড়ের চায়ের দোকানে বসে রাজনৈতিক আড্ডা দেন। এ আড্ডায় কৌশলে ঢুকে দক্ষতা উন্নয়নের আড্ডায় পরিণত করে যুবকদের অনুপ্রাণিত করে থাকেন। এতে তাদের অভিভাবকরাও উদ্বুদ্ধ হন। এ যাবত তারা ১২টি টি-স্টলে এরকম আড্ডা জমাতে পেরেছেন। প্রকল্পের প্রশিক্ষক নাছিমা শাহীন বলেন, তাদের আর একটি ব্যতিক্রম উদ্যোগ হলো নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে কিভাবে সুখের দিন ফিরে আসে সে সম্পর্কে ধারণা দেয়া। এ যাবত তারা সদর উপজেলার আরবপুর, চাঁচড়া, দেয়াড়া, কাশিমপুর ও নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ১৫টি নাটক মঞ্চস্থ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। মঙ্গলবার সর্বশেষ শহরতলীর চাঁচড়ার মঠবাড়ি এলাকায় ‘আসবে সুখের দিনে’ নাটক করে মানুষকে সুখের সন্ধান দিয়েছেন। এছাড়া ২২টি আলোচনা ও যুব সমাবেশ করে বেকারদের সামনে আশার আলো জ্বালানো হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী আবদুস সাদেক জানান, নামমাত্র ফি’তে যুবক-যুবতীরা টেইলারিং, কার্টচুপি, মোটরসাইকেল রিপিয়ারিংসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে দলে দলে ছুটে আসছেন। তারা এ যাবত দেড় হাজারের অধিক যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান করেছেন। কেউ নিজেই দোকান দিয়েছেন। আবার কেউ অন্যের দোকানে চাকরি করছেন।

শেয়ার