চীন-ভিয়েতনাম বিরোধে পুড়ছে কারখানা

factories
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলের একটি শিল্পোদ্যানে চীন-বিরোধী বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি কারখানায় আগুন দিয়েছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ এলাকায় চীনের একটি তেলের রিগ বসানোকে কেন্দ্র করে ভিয়েতনামে এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ক্ষুব্ধ ভিয়েতনামিরা বিভিন্ন কারখানায় আগুন দেয়ার পাশাপাশি ভাঙচুরও চালিয়েছে।

শিল্পোউদ্যানের ব্যবস্থাপক মঙ্গলবার তিনটি কারখানায় আগুন দেয়ার কথা জানালেও অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে এ সংখ্যা ১৫ উল্লেখ করা হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, বিন দুওং নাই প্রদেশের তাইওয়ানি কোম্পানিগুলো এ রোষের শিকার হয়েছে।বিক্ষোভকারীরা ভুল করে এ কোম্পানিগুলো চীনের মালিকানাধীন ভেবে এগুলোতে আগুন দেয়।

ভিয়েতনামের কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে বিস্তারিত না জানালেও বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা কারখানাগুলোর প্রবেশপথ গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং জানালা ভাঙচুর করেছে।

পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে দেখছে। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, বিন ডুওং এ দুটি ভিয়েতনাম-সিঙ্গাপুর শিল্পোদ্যানে বেশ কিছু সংখ্যক বিদেশি কোম্পানি ভবনে ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সিঙ্গাপুর সরকার অবিলম্বে ভিয়েতনামকে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনার অনুরোধ জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

ওদিকে, তাইওয়ানি কারখানায় অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে বিক্ষোভের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তাইওয়ান। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য ভিয়েতনামের দূতকেও তাইপেতে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

বিন ডুওং পিপলস কমিটির চেয়ারম্যান ত্রান ভান নাম স্থানীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, ১৯শ’ ভিয়েতনামী কর্মী বিক্ষোভে অংশ নেয় এবং অন্তত ১৫ টি কারখানায় আগুন দেয়। এর মধ্যে তাইওয়ানি কোম্পানি ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি আছে।

চীন এ মাসের শুরুর দিকে ভিয়েতনাম উপকূল থেকে ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে তেলের রিগ বসায়। পারাসেলস দ্বীপের কাছের এ জায়গাটির মালিকানা দাবি করে আসছে চীন ও ভিয়েতনাম দু’দেশই। ভিয়েতনাম চীনকে ওই জায়গা থেকে অবিলম্বে সরে যেতে বলার পরই তীব্র বিরোধ দেখা দেয়।

এ বিরোধের মধ্যে রিগের আশেপাশে পাহারারত চীনা জাহাজের সঙ্গে ভিয়েতনামি জাহাজের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বেইজিং বিরোধী বিক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।

শেয়ার