কালীগঞ্জে বিএনপির নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

BNP Leader Killed
নয়ন খন্দকার, (ঝিনাইদহ) কালীগঞ্জ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও পৌর সভার সাবেক প্যানেল মেয়র ইসমাইল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে শহরের চাপালী সড়কের একটি কালভার্টের কাছে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। ইসমাইল হোসেন হত্যার ঘটনায় বিএনপির মধ্যে চরম ক্ষোভ ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিকেলে এ ঘটনার প্রতিবাদে ৪টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ইসমাইল হোসেনের লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির নেতৃবৃন্দ। ইসমাইল হত্যাকারীদের আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে না পারলে বৃহস্পতিবার সকাল সন্ধ্যা হরতালে ডাক দিয়েছে উপজেলা বিএনপি। নিহত ইসমাইল হোসেন দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তিনি চাপালী গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মন্ডলের ছেলে।
জানা গেছে, সদালাপী, মিষ্টভাষী এ নেতা সকালে শহর থেকে জমিতে কাজ করা কৃষকদের জন্য নাস্তা নিয়ে চাপালী গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উক্ত স্থানে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে যায়। পরে এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯ টার দিকে তিনি মারা যান। নিহত ইসমাইল হোসেনের মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দুপুরে কালীগঞ্জ এসে পৌছালে শহরে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে শহরের নীমতলা বাসস্ট্যান্ডের ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক প্রায় আধাঘন্টা অবরোধ করে সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা মাহবুবার রহমান, ডা. নুরুল ইসলাম শুকুর, হামিদুল ইসলাম হামিদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহনাজ পারভিন, আশরাফুল ইসলাম লাল, জবেদ আলী প্রমুখ। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ইসমাইল হোসেন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে না পারলে বৃহস্পতিবার কালীগঞ্জে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের কর্মসূচির ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার বাদ আসর মরহুমের নামাজে জানাজা গ্রামের বাড়ী চাপালী ঈদগা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজায় দলীয় নেতাকর্মীসহ সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো জনগণ অংশগ্রহণ করেন। নামাজে জানাজা শেষে তাকে চাপালী গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিকেলে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা চাপালী গ্রামের আজিজার, শাহাজান, আতিয়ার ও আব্বাস আলীর বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
নিহত ইসমাইল হোসেন ১৯৯৮ সালে পৌর সভার প্রথম নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর ২০০২ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ৮ মে’র পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং ২০১১ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলরে দায়িত্ব পালন করেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার পর পরই তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। হত্যাকাণ্ডের সাথে কারা জড়িত আছে তাদের নাম জানা যায়নি। তবে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

শেয়ার