১৩ বছর পর লাশ হয়ে ফিরবেন নাজির

nazir mother
সমাজের কথা ডেস্ক॥ পারিবারিক আর্থিক অনটন দূর করতে কিশোর বয়সেই সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন নাজির হোসেন। মরুর বুকে কঠোর পরিশ্রম করে কেটে গেছে তার কৈশোর ও তারুণ্যের পুরোটাই।

আসি আসি করেও দেশে আসা হয়ে ওঠেনি এক যুগ। এই সময়ের মধ্যে পারিবারিক ধার-দেনা শোধ করেছেন শুধু। তাই আরো কিছু অর্থ জমা করে আগামী কোরবানির ঈদে যৌবনে পর্দাপণ করা নাজিরের দেশে ফেরার কথা ছিল।

তার ফেরার আশায় প্রতীক্ষায় ছিলেন বৃদ্ধা মা ও চার ভাই। অবশেষে নাজিরের দেশে ফেরার সময় হয়েছে। তবে ১৩ বছর পর নাজির মায়ের কোলে ফিরছেন লাশ হয়ে।

বিদেশ-বিভূঁইয়ে বসে দিনরাত অজস্র স্বপ্ন বুনেছেন নাজির আর দেশে বসে সুদিনের স্বপ্ন দেখেছেন তার মা ও ভাইয়েরা। অনাকাঙ্খিত এই মৃত্যু নিমেষেই ভেঙে দিয়েছে তাদের সব স্বপ্ন।

গত সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের সিফা সানাইয়া এলাকায় একটি সোফা ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে আরো ৮ বাংলাদেশির সঙ্গে মৃত্যু হয় কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নাজির হোসেনের।

মৃত নাজির হোসেন তিতাস উপজেলার নারানজিয়া এলাকার চকরবাড়ির মৃত জমসের আলীর।

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রবাস জীবনের দীর্ঘ ১৩ বছরে দেনাদাররা তার বাড়ির ঘরদোর পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। অবশিষ্ট রয়েছে শুধু বসতভিটাটি। ৫ ভাইয়ের মধ্যে বাকি ৪ জন বিভিন্ন দোকানে কাজ করে জীবন-যাপন করেন। বৃদ্ধ মা অন্যত্র থাকেন।

দু’দিন আগেই নাজির তার মাকে মোবাইল ফোনে বলেছিলেন, আগামী কোরবানির ঈদের আগে বাড়িতে এসে বসতভিটায় নতুন ঘর নির্মাণ করবেন। মা-ভাইদের ফিরিয়ে আনবেন নতুন ঘরে। কিন্তু নাজির হোসেনের সে স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বসতভিটায় ফিরে এসেছেন তার ৪ ভাই ও মা জোলেখা বেগম। ছেলের শোকে মা জোলেখা বেগম অচেতন হয়ে উঠানে পড়ে আছেন। চার ভাই উঠানের কোণে বসে কাদঁছেন। নাজিরকে অবলম্বন করে তারা নতুন করে বেঁচে থাকার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাতে আবারো চিড় ধরল।

নাজিরের ছোট ভাই আযহারুল বাংলানিউজকে জানান, ভাইয়ের সাথে গত রোববার রাত ৭টার দিকে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে তার। নাজির তাকে বলেছেন কোরবানির ঈদ পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আযহারুল বলেন, ভাই বলেছিল আমাদের সব কিছু হবে। ভাই তো চলে গেল। আর তো কিছু হবে না। ১৩ বছর ভাইকে দেখিনা। এখন ভাইয়ের মরা মুখ দেখতে হবে।’

শেয়ার