রুশপন্থিদের গণভোট ‘প্রহসন’

Ukraine crisis
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ইউক্রেইনের অন্তর্র্বতী প্রেসিডেন্ট ওলেস্কান্দর তুর্কিনোভ পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থি বিক্ষোভকারীদের অনুষ্ঠিত গণভোটকে কোনোরকম আইনি ভিত্তিবিহীন এক ‘প্রহসন’ বলে নিন্দা করেছেন।
সোমবার পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, “বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীরা যে প্রহসনকে গণভোট বলছে তা তাদের হত্যা, অপহরণ ও সহিংসতাসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দিয়ে রাখার জন্য এক ধরনের প্রচারণা ছাড়া আর কিছু নয়।”
রোববার ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেস্ক ও লুহানস্কে গণভোট হয়। স্ব-শাসন প্রশ্নে এ গণভোটে ডোনেস্কে ৮৯ শতাংশ এবং লুহানস্কের ৯৬ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে।
কিয়েভ সরকারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ গণভোট অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করার কথা ভাবছে ইউরোপ। ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্স তিম্মেরম্যান্স বলেছেন, ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সোমবারের বৈঠকে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মস্কোকে হুঁশিয়ার করে বলেছিল, ২৫ মে ইউক্রেইনে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বানচাল হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমাপন্থি আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন ইউক্রেইনের রুশপন্থি প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ। এরপর থেকে তুর্কিনোভ অন্তর্র্বতী প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার জায়গায় একজনকে নির্বাচিত করতেই আগামী ২৫ মে ভোট অনুষ্ঠান করবে ইউক্রেইন।
পূর্ব ইউক্রেইনের দুটি অঞ্চলে বেশ কয়েকটি শহরের লোকজন এ নির্বাচন বয়কট করেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আহ্বান উপেক্ষা করে পূর্বাঞ্চলের ওই দুটি অঞ্চলে রোববার গণভোট করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ভোট শেষের পর ক্রেমলিন এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
স্ব-শাসন প্রশ্নে প্রথম দফা গণভোট শেষ হয়েছে। এবার এক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়ায় যোগ দেয়ার প্রশ্নে আরেক দফা গণভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে রুশপন্থিদের। গণভোটের আয়োজকরা ২৫ মে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বয়কট করবে বলেও জানিয়েছে।

শেয়ার