মোদিকে স্বাগত জানাবে যুক্তরাষ্ট্র

modi
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভারতের সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
গুজরাটে ২০০২ সালের দাঙ্গায় মুসলিমদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ ওঠায় প্রায় দশ বছর আগে হিন্দুত্ববাদী এই নেতাকে নিষিদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার ভারতের লোকসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর চারটি প্রধান নির্বাচন পরবর্তী জরিপে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।
জরিপের আভাস বাস্তব রূপ নিলে বিজেপি নেতা মোদি ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।
মোদির জয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খাবে তার প্রতিপক্ষরা, যারা মোদিকে ‘হিন্দুত্বাবাদী একনায়ক’ এবং গুজরাটের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ‘মুসলিমদের রক্তে তার হাত রঞ্জিত’ বলে প্রচারণা চালিয়ে এসেছেন।
গুজরাটের দাঙ্গার জন্য, ২০০১ সাল থেকে টানা ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে এতদিন পশ্চিমা দেশগুলো এড়িয়ে চলেছে। ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মোদিকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। “ধর্মীয় স্বাধীনতার মারাত্মক লঙ্ঘন” আইনের আওতায় তাকে ভিসা দেয়া হয়নি।
কিন্তু ভারতের জাতীয় পর্যায়ে মোদির উত্থান, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের গুরুত্ব, এশিয়ায় চীনের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা, এসব কিছু যুক্তরাষ্ট্রকে মোদির বিষয়টি নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করছে।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এরইমধ্যে মোদির সঙ্গে দেখা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা।
২০০২ সালে কোনো অপরাধ করেননি বলে দাবি করে আসছেন মোদি। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়েও মোদির ওই কথার সমর্থনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
মোদি প্রধানমন্ত্রী হলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়া হবে কিনা তা পরিষ্কারভাবে জানাতে বারবার অস্বীকার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তারা নিশ্চিত, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক বিবেচনায় মোদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়া হবে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে, ভারতের পাঁচ সপ্তাহব্যাপী নির্বাচনকে “গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অনন্যসাধারণ ক্ষমতার কার্যকর উদাহরণ”বলে অভিহিত করেছে।

শেয়ার