চারমাসে শতকোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার

gold law
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে গত চার মাসে প্রায় ৩৬০ কেজি চোরাচালানকৃত স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে যার বাজার মূল্য প্রায় একশ’ ৭০ কোটি টাকা। চলতি মে মাসের হিসাব যোগ করলে স্বর্ণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭৫ কেজিতে। যার বাজার মূল্য একশ’ ৭৮ কোটি টাকা।

এ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় চারমাসে মামলা করা হয়েছে ২৩টি আর আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৪ জন।

জব্দ করা স্বর্ণের বেশিরভাগই উদ্ধার করা হয়েছে বাংলাদেশ বিমানের এয়ারক্রাফট থেকে। গত ২৬ এপ্রিল বিমানের এয়ারক্রাফট থেকে ১০৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় আনিছ উদ্দিন ভুইয়া নামে বাংলাদেশ বিমানের এক কর্মচারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা ২৩টি মামলার ১০টি হয়েছে এপ্রিল মাসে। আর আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫ জন।

কাস্টমসের গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মইনুল খান বাংলানিউজকে বলেন, যে কোনো বছরের তুলনায় এ বছরের চারমাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চোরাচালানকৃত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। গত চারমাসে ৩৬০ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য ১শ’ ৭০ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় চারমাসে ২৩টি মামলা করা হয়েছে। এ সব মামলায় আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৪ জনকে।

গত বছরের ২৪ জুলাই দেশের বৃহত্তম স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনা ধরা পড়ে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কাঠমান্ডু থেকে আসা বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি এয়ারক্রাফট থেকে দুপুর ২টার দিকে এক হাজার ৬৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। কেজির হিসাবে এ স্বর্ণের ওজন দাঁড়ায় ১২৪ কেজি ২১৬ গ্রাম।

তবে চলতি বছর সবচেয়ে বড় ও দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের চালানটি ধরা পড়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ওইদিন বেলা ২টার দিকে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তল্লাশি চালিয়ে এর টয়লেটের ভেতর থেকে ১০৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দারা।

এ ঘটনায় মো. আনিস উদ্দিন ভুইয়া নামে ওই বিমানের এক মেকানিককে গ্রেফতার করা হয়।

তৃতীয় বৃহত্তম চালানটি ধরা পড়ে চট্টগ্রাম নগরীর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। গত ২৫ মার্চ প্রায় ১০৫ কেজি ওজনের স্বর্ণের চালান উদ্ধার করা হয়। এর সাথে জড়িত ১০ যাত্রীকে আটক করে কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থা।

আটক যাত্রীরা হলেন, মনসুর ইসলাম, শফিক ইসলাম, পেয়ারুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, মো. ইয়াকুব, মহিন উদ্দিন, নাহিদ তালুকদার, ইমতিয়াজ খান, রহিম শিকদার ও মো. ফয়সাল।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বাংলানিউজকে বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর স্বর্ণ জব্দ করার ঘটনা বেড়েছে। প্রত্যেক ঘটনায় আমরা মামলা করি। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়।

আদালতের বিমানবন্দর থানার জিআরও আমিনুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান মামলার আসামিরা ঢাকার সিএমএম ও মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন না পেলেও হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আসে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই আসামিরা জামিন লাভ করে।

গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৩ কেজি স্বর্ণসহ গ্রেফতার আসামি মাসুদ রানা এক মাস ২৮ দিন পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।

এভাবে গত বছর দায়ের করা বেশিরভাগ মামলার আসামিই জামিন পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, স্বর্ণ চোরাচালানের মামলাগুলোর তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। স্বর্ণের বাহকরা এসব মামলায় গ্রেফতার হলেও রাঘব বোয়ালরা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা সৃষ্টি করেন আরেক বাহক। আর তাই চোরাচালান করা স্বর্ণ আটক ও এর বাহক ধরা পড়লেও স্বর্ণ চোরাচালান কমে না। বছর বছর বেড়েই চলে স্বর্ণ চোরাচালান।

শেয়ার