পানির গতিপথে বাধা সৃষ্টি না করতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

pm
সমাজের কথা ডেস্ক॥ উন্নয়নের নামে পানির গতিপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সপ্তাহ শুরুর দিন রোববার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়ন মানে শুধু বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো না।”
‘স্লুইস গেইট কনসেপ্ট’ বাদ দিতে হবে বলে মন্তব্য করে সরকার প্রধান বলেন, “এটা কাজে আসে না। আমরা হয়তো বানানোর খুশিতেই বানাই। কিন্তু, কার্যকারিতা দেখি না।
“খালে স্লুইস গেট করে কতগুলো মরে গেছে? আপনারা হিসাব নেন। নৌকার ব্যবহার নাই। মাছ পাওয়া যায় না।”
“পানি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অনেক এলাকা নষ্ট করেছি,” বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “পানির নিজের শক্তি আছে। প্রকৃতি যখন প্রতিশোধ নেয়, তখন কোনো মেকানিজমই কাজ করে না। প্রকৃতিকে প্রকৃতির মতো চলতে দিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত।”
বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারা সাহায্য সংস্থা না, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী।”
শেখ হাসিনা নদীর নাব্যতা বৃদ্ধিতে নদী খননের কথা উল্লেখ করে বলেন, “যখন ড্রেজিংয়ের কথা বলতাম, তখন তারা (উন্নয়ন সহযোগীরা) আগ্রহী ছিল না। তারা বাঁধ দিতে আগ্রহী ছিল।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি না করে শুধু বাঁধ দিলে এক সময় বাঁধেরও কার্যকারিতা থাকবে না।
কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে বন্যার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, “শুধু বাঁধ দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করলে চলবে না। বন্যার সঙ্গে বসবাস করতে শিখতে হবে।
“বন্যার কিন্তু প্রয়োজন আছে। জমির যে উর্বরতা চলে যায়- বন্যায় তা রিচার্জ হয়। বন্যা হবে। মানুষ বন্যার সঙ্গে বসবাস করবে। খেয়াল রাখতে হবে, মানুষের যেন ক্ষতি না হয়।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বন্যার সময় বাফার জোনে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পানি চলে যাবে। আবার, পানি সরে গেলে সেখানে জমির উর্বরতা বাড়বে।”
নদী এবং রেলপথ সবচেয়ে অবহেলিত বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, সড়ক তৈরি করতে গিয়ে পানির পথে বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছে।
বুড়িগঙ্গাকে ‘ঢাকার দুঃখ’ হিসাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পচা দুর্গন্ধে এই নদীতে যাওয়া যায় না। বর্জ্য আর তেলে এই নদী দূষণ হচ্ছে।”

১৩৮টি পয়েন্ট থেকে এই বর্জ্য নামছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেভাবেই হোক এই নদী রক্ষা করতে হবে।”
১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালের বন্যার পানির স্তর দেখেই সেতু তৈরির কথাও বলেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের প্রথম সরকার প্রধান যিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বলেন, “পানি মানেই জীবন। আজ জীবনের কাছে আসা। পানি একটা বিরাট সম্পদ। পানিকে সমানে রেখেই নদীর তীরেই সব সভ্যতা গড়ে উঠেছে।”
তিনি সবাইকে পানি রক্ষার আহ্বান জানান।
১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড’ এবং ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পানি ও নদীর গুরুত্ব অনুধাবন করেই জাতির পিতা এই পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলেন।”
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, “ড্রেজিং সম্পর্কে শিক্ষা আমি জাতির পিতার কাছ থেকেই পেয়েছি।”
ভূমিকম্প রোধে গভীর নলকূপের পরিবর্তে জলাশয়ে পানি ধারণ করে তা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে একটা নদীর সাথে আরেকটা যুক্ত। সেদিকে, চিন্তা করেই পরিকল্পনা নিতে হবে।”

শেয়ার