ইউপি চেয়ারম্যানদের সুস্পষ্ঠ ধারণা না থাকায় এলজিএসপি প্রকল্প যথাযথ ভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না

Dc2
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ দ্বিতীয় লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি) এর অধিকাংশ ওয়ার্ড ও স্কিম সুপার ভিশন কমিটি কার্যক্রম শুধুমাত্র কাগজে কলমে আছে। এছাড়া এলজিএসপি সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানদের সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় এই প্রকল্প সমূহ যথাযথ ভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। যশোরের ৯১টি ইউনিয়ন পরিষদ এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। যশোর জেলা সমন্বয় কমিটি (ডিসিসি) কমিটির সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতার কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলা হয়েছে।
কালেক্টরেট সভাকক্ষে রোববার দুপুরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান। সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ডিডিএলজি জহুরুল হক। সভায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা এবিএম রাশিদুজ্জামান।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সভায় আরও বলা হয়, ইউপি সচিবদের ডকুমেন্টশন, ক্যাশবই ব্যবস্থাপনা, ব্যাংক রিকন্সিলেশন বিষয়ে দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া হাটবাজারের টাকা বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসারে প্রদান করা হচ্ছে ফলে ইউপি অংশের সব টাকা হিসাব ব্যবস্থায় আসছে না। এছাড়া বেশিরভাগ ইউনিয়নের কর আদায় কম এবং বাজারের দোকান গুলো ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে না।
সভায় এই সব অসুবিধা দ্রুত দূর করার জন্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় এই প্রকল্পের ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট প্রক্রিয়া মে মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এদিকে প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করতে ওয়ার্ড ও স্কিম সুপারভিশন কমিটির ওরিয়েন্টেশন সভা শুরু হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
আলোচনা করেন কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এইসএম আমির হোসেন, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসিব নেওয়াজ, মণিরামপুরের রোহিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান।
সভায় বলা হয়েছে এ প্রকল্পের আওতায় জেলার তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানব সম্পদ উন্নয়নে ২০১৩-১৪ সালে যশোরের ৮ উপজেলায় মোট ১৪ কোটি ৩৪ লাখ ২হাজার ৭শ’ ৩৩টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যশোর সদরে সবচেয়ে বেশি ২ কোটি ৫৬ লাখ ২৯ হাজার ২শ’৪ টাকা। আর সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে অভয়নগর উপজেলায় ৯৯ লাখ ১২ হাজার ৬শ’৪১ টাকা। এছাড়া মণিরামপুরে ২ কোটি ১৪ লাখ ২১ হাজার ২৫ টাকা, শার্শায় ১কোটি ৫৯ লাখ ৬১ হাজার ৬শ’৭৫ টাকা, ঝিকরগাছায় ১কোটি ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার ৬শ’ টাকা, চৌগাছায় ১কোটি ২২ লাখ ৭২ হাজার ১৪ টাকা, কেশবপুরে ১কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ৩০৮ টাকা এবং বাঘারপাড়া ১কোটি ১৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

শেয়ার