চ্যাপলিন জাদুঘর

Chaplin
সমাজের কথা ডেস্ক॥ সুইজারল্যান্ডে যে বাড়িতে শেষ জীবন কাটিয়েছেন চার্লি চ্যাপলিন সে বাড়িটিকে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর এ জন্য খরচ হবে ৪ কোটি পাউন্ড। ২০১৬ সালে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে জাদুঘরটি।

নির্বাক চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি তারকা চার্লি চ্যাপলিন মারা যান ১৯৭৭ সালে। জীবনের শেষ ২৫ বছর তিনি কাটান সুইজারল্যান্ডের করসিয়ের-সার-ভেভেতে অবস্থিত ম্যানর ডি ব্যান-এ।

ম্যাকার্থির আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় চ্যাপলিনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে সমাজতন্ত্র সমর্থনের । ষাটোর্ধ্ব চ্যাপলিন সুইজারল্যান্ডে পাড়ি জমাতে বাধ্য হন।

জেনেভা লেকের তীরে প্রায় ১৪ হেক্টর (৩৫ একর) জায়গাজুড়ে ছিল তাঁর বাড়ি। ম্যানরটি ২০০৮ সালে কিনে নেয় লুক্সেমবার্গ ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম।

এই জাদুঘরটি নির্মাণে সহযোগিতা করছে চ্যাপলিনের সন্তান মাইকেল, উইজিন ও ভিক্টোরিয়া পরিচালিত ‘চার্লি চ্যাপলিন মিউজিয়াম ফাউন্ডেশন’।

জাদুঘরটির পরিচালক ইভস ডুরান্ড বলেন, ‘তাঁর আত্মা, তাঁর চেতনা এখনও এখানে বর্তমান। তাই মানুষ এখানে এসে তাঁর সাক্ষাৎ পাবে, তাঁকে খুঁজে পাবে, তাঁর কণ্ঠ শুনতে পারবে, তাঁর চলচ্চিত্র দেখতে পারবে, তাঁর গান শুনতে পারবে’।

ম্যানর ডি ব্যান-এ জন্ম নেওয়া ইউজিন চ্যাপলিন বলেন, ‘এই বাড়ির উঠানে আমি আমার বাবার সঙ্গে ফুটবল খেলতাম। অসাধারণ একটা পারিবারিক জীবন ছিল আমাদের। আমাদের পরিবারের আশ্রয়স্থল ছিল এই বাড়িটি’।

চ্যাপলিন বাস করার সময় বাড়িটি ঠিক যেমন ছিল, তেমনভাবেই জাদুঘরটিকে সাজিয়ে তোলা হবে।

তাঁর নাতনি সুইস শিল্পী লরা চ্যাপলিন বলেন, ‘বড় হয়ে ওঠার জন্য এটি ছিল একটি স্বপ্নের জায়গা। আমরা দীর্ঘ সময় এই জাদুঘরের জন্য অপেক্ষা করেছি এবং শেষ পর্যন্ত বাস্তবেই এটি হতে যাচ্ছে’।

চার্লি চ্যাপলিন ছিলেন একাধারে অভিনেতা, লেখক, পরিচালক, প্রযোজক এবং সুরকার। দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে মানুষকে বিনোদন দিয়ে গেছেন । ‘ছোট্ট ভবঘুরে’ চরিত্রটি দিয়ে রূপালি পর্দায় চ্যাপলিন হয়ে ওঠেন কিংবদন্তিতুল্য।

শেয়ার