ক্রাইসিস ম্যানেজার ওবায়দুল কাদের!

Obaidul Kader
সমাজের কথা ডেস্ক॥
তিনি গাড়ি থেকে সরাসরি রাস্তায় নেমে এলেন। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে হাত মেলালেন। নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে লাল ফিতা কেটে উদ্বোধন করলেন জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভালুকা সেতু। এরপর আবার ছুটলেন ত্রিশালের চেলেরঘাটে ক্ষীরু সেতু উদ্বোধন করতে।
সেখানেও একইভাবে উদ্বোধন শেষে কথা বললেন উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে। নিজের চেনা এমন স্টাইলেই কাজ করেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
কথাবার্তাতেও সোজাসাপ্টা তিনি। সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর এমন সাদামাটা চাল-চলন দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকা ও ত্রিশালবাসী।
শনিবার সকালে যখন ওবায়দুল কাদের ভালুকা সেতুর উদ্বোধন করছিলেন, তখন আশেপাশের পথচারী ও বাসিন্দারা তাকে দেখতে ভিড় করেন। অনেকে কাজ ফেলেও মন্ত্রীকে দেখতে ছুটে আসেন। ভিড় ঠেলে এ প্রতিনিধির কথা হয় সবুজ আকন্দ নামে স্থানীয় এক তরুণের সঙ্গে।
ভালুকা পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিক্ষিত এ তরুণের মতে, সাধারণত কোনো মন্ত্রী এলে আগে থেকেই মঞ্চ করা হয়। ফুল ছিটিয়ে মন্ত্রীকে বরণ করা হয়। এরপর মঞ্চে বক্তারা মন্ত্রীর প্রশংসায় মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। মন্ত্রী পুলকিত হন। কিন্তু এ মন্ত্রী যেন ব্যতিক্রম! কিন্তু এই মন্ত্রী প্রখর খরতাপের মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেতুর উদ্বোধন করলেন।
কথাও বললেন সোজাসাপ্টা। মন্ত্রীত্বকে তিনি জনস্বার্থে নিবেদন করেছেন। মন্ত্রী হয়েও তার এমন সাদামাটা জীবন-যাপন সবার জন্যই অনুকরণীয়।
পাশেই দাঁড়ানো আলী আকবর নামে স্থানীয় এক দোকানি বাংলানিউজকে বলেন, ওবায়দুল কাদেরের কাজের স্টাইল (ধরন) সব সময় টিভিতে দেখি। তার এ অ্যাকশন (কাজ) আমার খুব ভালো লাগে। এ কারণেই তাকে কাছ থেকে দেখতে ব্যবসা বন্ধ রেখে এখানে এসেছি।
মহাজোট সরকারের প্রথমবারের শেষেরদিকে মন্ত্রী ছিলেন ওবায়দুল কাদের। ওই সময় মন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, তিনি রাস্তার মানুষ। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ছেড়ে তিনি ঘাম ঝরিয়েছেন রাস্তায়। একদিন-প্রতিদিন।
মন্ত্রী হিসেবে বা ব্যক্তি মানুষ হিসেবে কিংবা রাজনীতিবিদ হিসেবে ওবায়দুল কাদের অনন্য এমন অভিমত ময়মনসিংহের সংবাদকর্মীদেরও।
ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম খান বলেন, জনগণের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ছেড়ে রাস্তায় নামতে হয়। তাহলেই জনসাধারণের অভাব-অভিযোগ বোঝা যায়। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি প্রশংসা পাওয়ারযোগ্যই বটে!
তিনি বলেন, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পারফরম্যান্সে (কর্ম দক্ষতায়) সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সবাই এ মন্ত্রীর পারফরম্যান্সের প্রশংসা না করে পারেননি। ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ হিসেবেও তিনি সফল।
সড়ক-মহাসড়কে যোগাযোগমন্ত্রীর তৎপরতার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন ত্রিশালের চেলেরঘাট এলাকার বাসিন্দা গোলাম রব্বানীও।
তার মতে, ওবায়দুল কাদের তার কাজ দিয়ে হিন্দি ছবি ‘নায়ক’-এর নায়ক অনীল কাপুরকেও পরাস্ত করেছেন। মন্ত্রী হলে এমনই হওয়া উচিত। মন্ত্রীত্ব কাকে বলে, কীভাবে করতে হয়, তা দেখিয়ে দিয়েছেন ‘ওকে মিনিস্টার’ ওবায়দুল কাদের।
বিরোধীদলকে আক্রমণ করে নয়, তাদের গঠনমূলক সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। ভালুকা ও ত্রিশালে সেতু উদ্বোধন শেষে ময়মনসিংহের সাংবাদিকরা তার কাছে শহরের রাস্তাঘাটের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এসব সমস্যার কথা ঠাণ্ডা মাথায় শুনে দ্রুত সমাধানের জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিলেন যোগাযোগমন্ত্রী।
এরপর কাজ শেষে আবার ঢাকায় ফেরা তার। সেখান থেকে অন্য কোথাও দৌড়াতে হবে হয়ত!

শেয়ার