‘কিলার রোবট’ নিয়ে বিতর্ক জাতিসংঘে

killer robot
সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রথমবারের মতো ‘কিলার রোবট’ ইস্যুতে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বসছে জাতিসংঘ। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওই আলোচনায় ‘কিলার রোবটের’ কার্যক্ষমতা, প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনায় বসবেন শীর্ষ রোবটিক্স বিশেষজ্ঞরা।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘সার্টেইন কনভেনশনাল উইপনস’ বিষয়ক জাতিসংঘের সম্মেলন চলাকালীন ‘কিলার রোবট’ ইস্যু নিয়ে ওই অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

‘কিলার রোবটের’ আইডিয়া প্রযুক্তিজগতে নতুন কিছু নয়। জনপ্রিয় হলিউডি সিনেমা ‘টার্মিনেটরের’ বদৌলতে ‘কিলার রোবট’ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা আছে সাধারণ জনগণেরও।

বলা হয়ে থাকে, ‘কিলার রোবট’ হচ্ছে এমন একটি উইপন সিস্টেম যা কিনা সরাসরি কারও নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই নিজে থেকে লক্ষ্য স্থির করে হত্যা করতে পারে। বর্তমান পৃথিবীতে কিলার রোবটের উপস্থিতি নেই এখনও। কিন্তু প্রযুক্তির ‘লাগাম ছাড়া’ অগ্রগতিতে ড্রোনের পর কিলার রোবটগুলোই আত্মপ্রকাশ করতে পারে সবচেয়ে বড় মারণাস্ত্র হুমকি হিসেবে।

অস্ত্র নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেই মনে করেন বর্তমান যুদ্ধ আইন মেনেই ‘কিলার রোবট’ ব্যবহার করা সম্ভব। পরবর্তীতে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলেও সেটাও সমাধান করা সম্ভব বর্তমান আইনের অধীনেই।

অন্যদিকে কিলার রোবট বিরোধীদের মতে মানবতার জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এই প্রযুক্তি। মাঠপর্যায়ে ব্যবহার শূরু হওয়ার আগেই এই প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করার দাবি তাদের।

জাতিসংঘের ওই আলোচনা সভায় অংশ নেবেন ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর রোবট আর্মস কন্ট্রোল’-এর চেয়ারম্যান এবং ‘ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট কিলার রোবটস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর নোয়েল শার্কি। প্রফেসর শার্কির মতে কিলার রোবট বা অটোনোমাস উইপন সিস্টেমগুলো সবসময়ই যে আন্তর্জাতিক আইন মেনে কাজ করবে তা নিশ্চিত করার কোনো উপায় নেই। “মানবতার জন্য এটা বড় হুমকি, অথচ জাতিগুলো এই বিষয়ে পারস্পারিক কোনো আলোচনাই করছে না।”

শেয়ার