কোটচাঁদপুরে ইউপি মেম্বর কালাম অপহরণের পর হত্যা মামলার অভিযুক্তকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ !

opohoron
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)॥ কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনয়নের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাফেজ আবুল কালামকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা মামলার অভিযুক্ত আসামি কোটচাঁদপুর থানার ওসি ফজুলর রহমানকে তদন্তভার দেয়ায় ক্ষোভের আগুনে পুড়ছেন বাদিসহ স্বজনরা। তদন্তের নামে এটি নিহতের পরিবারের সাথে প্রহসন ছাড়া কিছুই নয় বলে মনে করছেন সচেতনমহল।
নিহত আবুল কালামের স্ত্রী হাসিনা বেগম জানান. তার স্বামীকে অপহরণের পর হত্যা করায় তিনি কোটচাঁদপুর থানার ওসি ও দু’জন উপ পরিদর্শকসহ ৮জনকে বিবাদী করে ২৮ এপ্রিল ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তাজউল ইমলাম অভিযোগটি তদন্ত পূর্বক ৭দিনের মধ্যে থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তবে বাদির ধারণা ছিল প্রত্যেক থানায় যেহেতু দু’জন করে ওসি রয়েছেন। সেকারণে অভিযুক্ত ওসি ফজলুর রহমান তদন্তভার পাবেন না কিন্তু তার ধারণ শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়নি। ওই পিটিশন মামলায় ওসি ফজলুর রহমান ৭ নম্বর বিবাদী। মামলাটির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ মে। মামলায় অন্যান্য বিবাদীরা হলেন, কোটচাঁদপুর উপজেলার বলাবাড়িয়া গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে মতিয়ার রহমান (কালু), একই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মজনুর রহমান, ঠা-ু খোন্দকারের ছেলে শাহিনুর রহমান (দুলাল), আফজাল জোয়ারদারের ছেলে জাহিদুল মাস্টার, স্থানীয় এলাঙ্গী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খান, কোটচাঁদপুর থানার সেকেন্ড অফিসার উপ পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান মিজান ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর পুলিশ ফাঁড়ি তদন্ত কর্মকর্তা শিবুপদ দত্ত। ১৮ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে কোটচাঁদপুর উপজেলার বলাবাড়িয়া গ্রাম থেকে ইউপি সদস্য হাফেজ আবুল কালামকে সাদা পোশাকের একদল অস্ত্রধারী তুলে নিয়ে যায়। নিহত আবুল কালামের ছেলে হাফিজুর রহমান ওই সময় অভিযোগ করেন, কোটচাঁদপুর থানার এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের পুলিশ একটি নীল রংয়ের প্রাইভেট কারে করে তুলে নিয়ে যায় তার বাবাকে। এরপর কালামকে কোটচাঁদপুর উপজেলার গুড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হলে কালামের স্বজনরা ফাঁড়ি ঘেরাও করে। তারপর একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাসে কালামকে বাজার গোপালপুর পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়। ৩দিন পর ২১ এপ্রিল কালামের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় ঝিনাইদহের সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের মামুনসিয়া গ্রামের বকুলতলা মাঠে।
নিহত কালামের স্ত্রী হাসিনা বেগমের অভিযোগ এক থেকে ৫ নম্বর আসামিরা পুলিশের সহায়তায় তার স্বামীকে অপহরণের পর হত্যা করেছে। তিনি অভিযুক্ত কোটচাঁদপুর থানার ওসির ওপর মামলার তদন্তভার ন্যস্ত করায় ন্যায় বিচার পাবেন না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া মামলা করার পর থেকেই বাদীকে নানা ভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও হাসিনা বেগম অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার ওসি ফজলুর রহমান জানান, হাসিনা বেগমের স্বামী আবুল কালাম অপহরণের পর নিহত হয়েছেন এটা সত্য। তবে আমি বা কোটচাঁদপুরের কোনো পুলিশ সদস্য এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। সেদিন আমরা এ নামে কাউকে আটকও করেনি। তাই আমাদের অভিযুক্ত করার ঘটনা সত্য নয় বলে ওসি জানান।

শেয়ার