কেশবপুরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে তৃণমূল বিএনপি

BNP logo
নিজস্ব প্রতিবেদক, কেশবপুর॥ যশোরের কেশবপুরে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। কয়েকদিন আগেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ডাকে কেন্দ্রীয় বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশে নেতা কর্মীর সমর্থকদের ঢল নামলেও গত দু’টি কেন্দ্রীয় কর্মসুচি পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে কেশবপুর থানা ও পৌর বিএনপি কোন রকম সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় সাধারণ নেতা কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মী সমর্থকরা দাবি জানালেও তার কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় কর্মীরা মনোবল হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত ২৩ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বদরুজ্জামান মিন্টুকে। প্রথম সারির কয়েকজন নেতা ছাড়া অন্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত পাশ কাটিয়ে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পড়ায় নির্বাচনে বিএনপির নাজুক পরাজয় বরণ করতে হয়। বিএনপির শক্তঘাঁটি থাকা সত্বেও নির্বাচনের ফলাফলে তৃতীয় স্থানে থাকে বিএনপি। যা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ নেতা কর্মীরা। গত ২৯ মার্চ কেশবপুর আবু শারাফ সাদেক অডিটোরিয়ামে নির্বাচনোত্তর কর্মীসভার আয়োজন করে থানা ও পৌর বিএনপি। বর্ধিত সভায় উপস্থিত নেতা কর্মীরা ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করার কথা বর্ধিত সভায় উল্লেখ করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। কিন্তু সভা থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়া হয় এবং ২০ এপ্রিল নির্বাহী কমিটির সভা আহ্বানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দেয়া হলেও কার্যতঃ কোন সভা বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে তৃণমূল নেতা কর্মীদের অভিযোগ। পত্রিকায় নাম না প্রকাশের শর্তে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কয়েকজন নেতা কর্মী জানান, কেশবপুরে বিএনপির ভিতরের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে সাংগঠনিক শাস্তির বিধান একমাত্র ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে গ্রহণ করা হয়। এর পর আবার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাদেরকে দলে ফিরিয়ে আনা হলেও মনের ফাঁটল কাটিয়ে উঠতে পারেনি এ অংশটি। যার কারণে তারা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ঘাঁড়ে ভর করে আলাদাভাবে একটি বলয় তৈরি করে। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনে স্বয়ং থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সেই সব নেতাদের একটি অংশ এবার তারই বিরুদ্ধে নির্বাচনে কাজ করেছেন বলে তৃণমূল নেতা কর্মীদের অভিমত।

শেয়ার