ওসিসহ আয়োজক কমিটির প্রতিরাতে অবৈধ রোজগার ৫ লক্ষাধিক টাকা ॥ পাটকেলঘাটায় বৈশাখী মেলায় জ্যান্ত পুতুলের নাচ ! দর্শকের পকেট কাটছে ওয়ান-টেন হাউজি র‌্যাফেল ড্র

putul nac
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করেই সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় বৈশাখী মেলায় চলছে জ্যান্ত পুতুলের নগ্ন নাচ। সেই সাথে দর্শকদের পকেট কাটতে বসানো হয়েছে জমজমাট জুয়া আসর। একই সঙ্গে চলছে র‌্যাফেল ড্র’র নামে প্রতারণার ব্যবসা। ইতিমধ্যে মেলার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে কিন্তু পাটকেলঘাটা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘুষ নিয়ে চালাচ্ছেন এই অসামাজিক কর্মকান্ড। ওসি’র খুটির জোর কি তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। তার এই অনৈতিক কর্মকান্ডে উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও কেন নিশ্চুপ রয়েছেন তা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্নের জম্ম নিয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল এলাকাবাসীর বিনোদনের জন্য পাটকেলঘাটা বলফিল্ড মাটে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ১২ দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু হয়। যার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে পহেলা মে। মেয়াদ বাড়ানোর কোন আবেদন করেই গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে অশ্লীল নাচ, জুয়া, হাউজিং ও র‌্যাফেল ড্র। জানা গেছে থানা পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজসে প্রতি রাতে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছে। এসব বিষয় জানাজানি হলে মঙ্গলবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামান মেলা বন্ধে পাটকেলঘাটা থানার ওসি মামুনুর রশিদকে নির্দেশ দেন। তবে এসবের থোড়াই কেয়ার করেননি ওসি। মেলা চলবে, এমন আস্ফালন করে তিনি মঙ্গলবার রাতেও বহাল তবিয়তেই মেলা চালিয়েছেন। এদিকে প্রায় মধ্যরাতে মেলার বাঁধ সাধেন জেলা প্রশাসকের ঘটনাস্থলে পাঠানো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার রেজাউল করিম। তবে তাকেও ধোকা দিয়েছেন এই ঘুষখোর ওসি। সবকিছুই বন্ধ থাকবে ওসির এমন আশ্বাসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরে যাওয়ার পরই মেলা চলেছে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জমান বলেন, মঙ্গলবার রাতেই পাটকেলঘাটা থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার রেজাউল করিম জানান, মেলা চলবে না এমন আশ্বাসের ভিত্তিতেই তিনি সাতক্ষীরায় ফিরে যান। এবিষয়ে ওসি মামুনুর রশিদের দাবি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসার পরে মেলা বন্ধ করা হয়েছিল। রাতে মেলার কোন কিছুই চলেনি। প্রসঙ্গত, গত ২০ এপ্রিল এলাকাবাসীর বিনোদনের জন্য পাটকেলঘাটা বলফিল্ড মাটে ১২ দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। যাত্রার নামে নগ্ন নৃত্যের অভিযোগ উঠলে মেলার অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, এমন শর্তে জেলা প্রশাসন মেলার অনুমতি দেয়। তবে শুরুর দিন থেকেই অশ্লীলতার সীমা ছাড়িয়ে নগ্ন নৃত্য শুরু হয়ে যায়। যাত্রামোদী দর্শকরা মুখে কাপড় বেধে যাত্রা প্যান্ডেল থেকে বেরিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাচে। উঠতি বয়সী তরুনরা সম্পুর্ন নগ্ন নৃত্য শিল্পীদের সাথে মঞ্চে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হতে দেখা গেছে। পুতুল নাচের নামে জ্যান্ত পুতুল নাচ দেখতে কিশোর তরুনদের ঢল নামে মেলায়। টিকিটের টাকা যোগাড় করতে অনেকে ঘরে-বাইরে চুরি করছে বলেও জানা গেছে। র‌্যাফেল ড্র’র নামে মেলায় চলছে এলাকার মানুষের পকেট কাটার কৌশল। ২০ টাকার টিকিটে মোটর সাইকেল বাঁধে, এমন হুজুগে প্রতিরাতে অন্তত: ৪ লক্ষাধিক টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ওয়ান-টেন নামক জুয়া খেলার সর্বনাশা ছোবলে নি:স্ব হচ্ছে এলাকার লোকজন। বোর্ড চালাতেই আয়োজকদের দিতে হয় প্রতি রাতে ৩ লাখ টাকা। কোটি টাকার খেলা চলে এখানে। হাউজিসহ এসব বিভিন্ন খাত থেকে আয়োজকদের উপার্জন প্রতিরাতে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা। অভিভাকরা এসবের থেকে নিস্কৃতি পেতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার