যশোর কাস্টম’স শুল্ক গুদামে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পরামর্শে ডাকাতি নাটক ! কোটি টাকার পণ্য লুটের সাথে জড়িত চিহ্নিত নিলাম ক্রেতাচক্র ॥ ৫দিনেও তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়নি

sulko gudam
অমিয় বিশ্বাস ॥
যশোর কাস্টমস’র শুল্ক গুদামে কথিত ডাকাতির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম ৫দিনেও শুরু হয়নি। মামলাও রেকর্ড করেনি পুলিশ। তবে পুরো বিষয়টি যে পরিকল্পিত ও সাজানো নাটক ছিল তার সত্যতা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। শুধুমাত্র গুদাম ইনচার্জই না, সরকারের কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের সাথে কাস্টমসের বেশ কয়েকজন রাঘব-বোয়াল জড়িত রয়েছেন। তাদের পারস্পারিক যোগসাজস ও পরামর্শে নিলাম কেনাবেচার সাথে জড়িতরা কাভার্ড ভ্যানভর্তি করে মালামাল লুট করেছে। শহরের ষষ্টিতলাপাড়া কেন্দ্রিক ও মুজিব সড়ক এলাকার একটিচক্র লুটের মালামাল এখনো যশোরে রেখেছে। তবে কিছু মালামাল খুলনায় পাঠানো হয়েছে। একাধিক সুত্রে এ তথ্য মিলেছে।
সূত্রে জানাগেছে, শহরের ষষ্টিতলাপাড়া মুজিব সড়ক ও আশেপাশের এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত নিলাম ব্যবসায়ী গুদাম ইনচাজের্র পরামর্শে ৩০ এপ্রিল প্রকাশ্য দিবালোকে কাভার্ড ভ্যানে করে গুদামের মালামাল লুট করে। কাস্টমসের কতিপয় রাঘব-বোয়ালের সিগন্যালে গুদাম ইনচার্জ শম্ভুনাথ দে কতিপয় চিহ্নিত নিলাম ক্রেতা ও সুবিধাভোগীচক্রের সদস্যদের এই ডাকাতির নাটক মঞ্চস্থ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু শিয়ালের কাছে ছাগল পোষানীর মতো ঘটনা ঘটিয়েছে সারা বছরের সুবিধাভোগী নিলাম ক্রেতাচক্রের সদস্যরা। তারা নাটক করতে গিয়ে ইচ্ছে মতো দামী সব পণ্য লুট করে দুটি কাভার্ড ভ্যানে তুলে চলে আসে মুজিব সড়ক বেয়ে। এতে বাধা দেয়ার মতো শক্তি-সামর্থ সংগত কারণেই ওই সময় গুদাম ইনচার্জের ছিল না। বাধা দিলে তাকেই ফাঁসতে হতো এমন ভয় ছিল গুদাম ইনচার্জ শ¤ভুনাথ দে’সহ ঘটনার সাথে জড়িত কাস্টমসের উর্দ্ধতন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে। যেকারণে নিরব দর্শকের ভ’মিকা পালন করেন দুর্নীতিবাজ ইনচার্জ শ¤ভু। মজার ঘটনা হচ্ছে ইনচার্জ ও গুদামে কর্মরতদের কাছ থেকেই পাওয়া গেছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। শ¤ভুনাথ ৩০ এপ্রিলের এত বড় ঘটনার এজাহার করতে থানায় যান টানা ৫দিন পর। তিনি দাবি করেন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা-বার্তা বলে প্রস্তুতি নিতে বিলম্ব হয়েছে। এহাজাহারে দাবি করা হয়েছে ৩০ এপ্রিল বিকেল ৩টার দিকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তাদের অস্ত্রেরমুখে জিম্বি করে এই ডাকাতি সংঘঠিত হয়েছে। অথচ বেশ কয়েকজন গুদাম কর্মচারি জানান দুপুর ১২টার পরপরই ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পরস্পরবিরোধী এই বক্তব্যে রহস্যের বিষয়টি বেশ স্পষ্ট হয়। স্থানীয় বেশ কয়েকটি সুত্রে জানা যায়. দুটি কাভার্ড ভ্যানে মালামাল নিয়ে যেতে দেখা গেছে। তবে নিলামের মালামাল যেভাবে নেয়া হয় সেইভাবেই। সন্দেহ করার মতো কিছু তাদের চোখে পড়েনি। তার মানে হচ্ছে গুদামে সব সময় যেসব পরিচিত নিলাম ক্রেতাদের আসা-যাওয়া করতে সবাই দেখেন তাদেরই কাভার্ড ভ্যানে মালামাল আনতে দেখেছেন স্থানীয় ও আশপাশের লোকজন। যেকারণে কারোর কোন রকমের সন্দেহ হয়নি। সুত্রমতে লুটের মাল এখনো মুজিব সড়কের দু’জন ব্যবসায়ীর গুদামে রয়েছে। কিছু মালামাল পাচার করা হয়েছে খুলনায়। কাস্টমস অফিসের একাধিক সুত্রের দাবি শ¤ভুনাথ দে’র বদলীর চিঠি আসার পরই তিনি সারাবছর পণ্য চুরির অর্থ ভাগাভাগীর সাথে জড়িত অর্থাৎ ভাগীদারদের সাথে বৈঠকে বসেন। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় ডাকাতি নাটকের। নাটক সাজানোও হয় সেভাবে কিন্তু নাটকের অভিনয়ের সাথে জড়িত নিলাম ক্রেতারা লুটে নেয় দুই কাভার্ড ভ্যান দামী পণ্য। সুত্রমতে. গুদাদের ইনচার্জ হয়ে এসেছেন কুষ্টিয়া থেকে সাইফুল ইসলাম নামে এক ইন্সপেক্টর। তাকে পণ্যের হিসাব বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব নয় বলেই তার আসার আগেই সাজানো হয় ডাকাতির নাটক। কারণ সারাবছর ধরে গুদাম থেকে কোটি কোটি টাকার পণ্য বাইরে পাচার হয়েছে। অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে অনেক রাঘব-বোয়ালের মধ্যে। তবে সদ্য বদলী হওয়া গুদাম ইনচার্জ শম্ভুনাথ দে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ইন্সটেক্টর হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, কমিটির ৪ সদস্যের দু’জন জেলার বাইরে রয়েছেন। যেকারণে তদন্ত শুরু করা যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে এত বড় ঘটনার পর যিনি কমিটি গঠন করলেন তিনি কি জানতেন না যাদের কমিটিতে রাখা হলো তাদের দু’জন যশোরেই নেই ? নাকি জেনে-বুঝেই বাইরে থাকা কর্মকর্তাদের কমিটির সদস্য করা হয়েছে এমন প্রশ্ন খোদ কাস্টমসের অনেকের। এ ব্যাপারে সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারি।

শেয়ার