বিএডিসি’র সেই কর্মকর্তা মন্ত্রণালয়ে প্রত্যাহার ॥ তদন্ত কমিটি গঠন

BADC logo
প্রত্যয় জামান॥ আত্মহত্যার চেষ্টা করা বিএডিসি’র সেই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে যশোর থেকে ঢাকার সদর দপ্তরে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে গঠন করা হয়েছে দু’টি তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার কৃষিভবন থেকে তার প্রত্যাহার আদেশ যশোরে আসার পর তাকে রিলিজ করা হয়েছে। এদিকে তার প্রত্যাহারের আদেশ জানার পর পাওনাদাররা তার অফিসে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। তাদের ম্যানেজ করতে হিমশিম খান সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। শেষপর্যন্ত তার বাসার ফার্ণিচার, টিভি এবং পাওনাদারদের চেক দিয়ে কোনভাবে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।
শুক্রবার রাতে ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালান বিএডিসি’র ওই বিতর্কিত কর্মকর্তা লিছন হাওলাদার। এর জন্য তিনি দায়ি করেন তারই অফিসের দু’জন উর্ধতন কর্মকর্তাকে। তার এই খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় আসার পর উর্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টিতে আসে। তারা তাৎক্ষণিক খোজ খবর নিয়ে জানতে পারেন আত্মহত্যার প্রচেষ্টা সাজানো নাটক। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ থেকে রক্ষা পাবার জন্য তিনি এই নাটক সাজান। তাকে সহযোগিতা করেন কয়েকজন শ্রমিক। যারা রাতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। আব্দুস সাত্তার নামে উদ্যানের একজন শ্রমিক জানান পুরো বিষয়টি তাদের কাছে রহস্যজনক বলে মনে হয়েছে। তিনি বলেন, লিছন স্যার থাকতেন উদ্যানের বাংলোয়। রাত ১টার সময়ের ঘটনা গুটিকয়েক শ্রমিক জানলেন কীভাবে। তাদেরতো ওই সময় সেখানে থাকার কথা নয়। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তাররা ওয়াশ করে তার শরীরে কোন বিষ পাননি। আসোলে তিনি উর্ধতন কতৃপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁেস গেছেন।
লিছন হাওলাদার উপসহকারী পরিচালক হিসেবে যশোর উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রে যোগদান করেন গতবছর ১০ সেপ্টম্বর। তার বাড়ি পিরোজপুর জেলার সদরে। ২০০০ সালে তিনি নিয়োগ পান। যশোরে দায়িত্ব পালন কালে তিনি বিএডিসি;র স্বার্থ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার করে শ্রমিকদের মজুরি না দেয়া,উদ্যানের নারিকেল বিক্রির কথা বলে মাগুরার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাত, মাত্র ২ দিনের ছুটি নিয়ে মাসাধিককাল কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাসহ ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। ইতপুর্বে ফরিদপুরে কর্মরত থাকা অবস্থায় একই ধরণের অভিযোগে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরে বিশেষ তদ্বিরে চাকরি ফিরে পাওয়ার পর তিনি যোগদান করেন যশোরে। উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক খোরশেদ আলম জানান তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন অন্ত নেই। তিনি যেখানে গিয়েছেন সেখানে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ যশোরের ঘটনায় তাকে প্রত্যাহার করে ঢাকার সদর দপ্তরে নেয়া হয়েছে। একই সাথে গঠন করা হয়েছে দু’টি তদন্ত কমিটি।
উদ্যানের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, লিছন হাওলাদারের কৃষিভবনে প্রত্যাহারের খবর আসার পর পাওনাদারদের ঝামেলায় দিনভর তাদের ব্যাপক ধকল পোহাতে হয়েছে। ১০/১২ জন পাওনাদার এসে তাকে ঘিরে ফেলেন। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে চাকরি দেয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে সচিবের স্বাক্ষর জাল করে এক এস আইয়ের পুত্রের চাকরি দিয়েছিলেন। প্রত্যেক পাওনাদারকে কারো চেক কারো স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং কয়েক জন শ্রমিক পাওনা টাকাবাবদ তার ফার্ণিচার এবং টিভি আটকে রেখেছেন।
এব্যাপারে উপসহকারী পরিচালক লিছন হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার মন্ত্রণালয়ে প্রত্যাহারের কথা স্বীকার করে বলেন,পাওনাদারদের সব টাকা ফেরৎ দেয়া হয়েছে। ইতিপুর্বে তার চাকরি চ্যুত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মন্ত্রণালয় থেকে তাকে পূর্ণবহাল করা হয়।আত্মহত্যা প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এটি তার ব্যক্তিগত বিষয় ছিল। কারো বিরুদ্ধে তার কোন অভিযোগ নেই।

শেয়ার