বসুন্দিয়ায় মহুয়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক সিল গালা ॥ ৮ ক্লাস পাস ডাক্তারের জেল জরিমানা

clinic
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মোড়ের মহুয়া সার্জিক্যাল কিনিক থেকে খলিলুর রহমান নামে এক কোয়াক ডাক্তারকে আটকের পর জেল জরিমানা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা এবং তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীমুর রহমান এই আদেশ দেন। আটক খলিলুর রহমান অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়া গ্রামের সৈয়দ আব্দুল খালেকের ছেলে।
জানাগেছে, খলিলুর রহমান ২০১০ সালে অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় কয়েকটি কিনিকে ওয়ার্ডবয় হিসেবে কাজ করতেন। এক বছর পর তিনি সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মোড়ে একটি কিনিকে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে নিজেই শুরু করেন রোগীদের অস্ত্রোপচার। কয়েকজন রোগীর অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতায় অষ্টম শ্রেণি পাস। এ ছাড়া একাধিকবার ওই কিনিকে প্রশাসনের অভিযানে তাকে জরিমানা দিতে হয়েছে। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই কিনিকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে আবার দফারফার মাধ্যমে তিনি কিনিক চালু করেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী ডাক্তার, নার্স, যন্ত্রাংশ এমনকি ভবনটিও ওই কিনিকের উপযোগী নয়। এক সময় চোরাই মোটরসাইকেল কেনা বেচার অভিযোগে পুলিশ তাকে পাকড়াও করে। এদিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি টিম ওই কিনিকে যায়। এ সময় খলিল নিজেকে পরিচালক বলে দাবি করলেও সরকারি অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ না থাকায় তাকে আটক করা হয়। এরপর তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীমুর রহমান জানান, কিনিকটির কোন লাইসেন্স নেই। সেখানে নিবন্ধিত কোন মেডিকেল প্রাকটিশনার, অভিজ্ঞ নার্স অস্ত্রোপচারের জন্য ব্যবহৃত কটিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জমাদি নেই এবং রোগীর জন্য ব্যবহৃত কগুলিও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। সেকারণে ওই কিনিকের অপারেশন থিয়েটার এবং রিসিভসনিস্ট রুম সিল গালা করা হয়েছে।

শেয়ার