প্রেসকাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন ॥ ডা, গফ্ফারের বিরেুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

songbad sommelon
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অপচিকিৎসায় পথে বসার উপক্রম হয়েছে যশোর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের রমজান আলীর মেয়ে রিপা বেগমের পরিবার। মঙ্গলবার সকালে প্রেস কাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিপার বোন রেহেনা খাতুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মিজানুর রহমান ও পিয়ারি সুলতানা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১১ এপ্রিল রিপা বেগমকে সন্তান প্রসবের জন্য নওয়াপাড়া ডক্টরর্স কিনিকে ভর্তি করা হয়। এ সময় ওই কিনিকের সত্বাধীকারী ডাক্তার আব্দুল গফ্ফার কোন পরীক্ষা নিরীক্ষায় ছাড়াই জানায় সন্তানটি স্বাভাবিক অবস্থায় না থাকায় অস্ত্রোপচার করতে হবে। দু’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে অপারেশন করতে হবে ডাক্তার জানান। এজন্য তিনি ৩০ হাজার টাকা অপারেশন ফি দাবি করেন। রিপা বেগম ১৫ হাজার টাকার বেশি দিতে পারবে না জানালে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সহায়তা বাদেই তিনি নিজে নার্স ও আয়াদের সহযোগিতায় ওইদিন রাতেই অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ট করান। অপারেশনের পর থেকেই রিপা বেগম অতিমাত্রায় ব্যাথা অনুভব করতে থাকেন। এর কারণ জানতে চাইলে ডা. আব্দুল গফ্ফার জানান, কম টাকায় অপারেশন করলে ব্যাথাতো হবেই। একইসাথে রোগীকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। রিপা বেগমের অবস্থা ভালো না হওয়ায় তিনি কিনিকে থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু মাত্র ৪দিন পর অসুস্থ অবস্থায় তাকে কিনিক থেকে জোরপূর্বক বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল রিপা বেগমকে যশোর শহরের একতা কিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আল্ট্রাসনো করে দেখতে পান রোগীর অপারেশন স্থলে গজসহ অপারেশনে ব্যবহৃত কিছু জিনিষপত্র রয়েছে। রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পরেরদিনই চিকিৎসকরা তার অপারশেন করে গজসহ অন্যান্য জিনিষপত্র বের করেন। বেশকিছুদিন ধরে রোগীর পেটের মধ্যে গজ কাপড় থাকায় অপারশেনস্থলে পচন ধরেছে বলে জানান চিকিৎসকরা। তিনি আরো বলেন, তাদের কাছে বর্তমানে কোন টাকা না থাকায় ওষুধ কিনতে পারছে না। এছাড়া হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে পারছেনা।
এ ঘটনায় রেহেনা বেগম সোমবার যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করেন। বিচারক অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবহিত করার জন্য আদেশ দিয়েছেন।

শেয়ার