প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ থাই আদালতের

enlak
সমাজের কথা ডেস্ক॥ থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্সহ মন্ত্রিসভার কয়েকজন মন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে সাংবিধানিক আদালত। কয়েকজন থাই সিনেটর ইংলাকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে তাকে বরখাস্ত করার আবেদন করার পর আদালত এ রায় দিল। এতে করে থাইল্যান্ডে চলমান সঙ্কট আরো ঘনীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০১১ সালে দলের স্বার্থে জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান থাভিল প্লিয়েনশ্রিকে সরিয়ে দেয়ার অভিযোগ ছিল ইংলাকের বিরুদ্ধে। রায়ে সাংবিধানিক আদালত বলেছে, ইংলাক বেআইনিভাবে ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
থাইল্যান্ডে কয়েকমাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর আদালত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ রায় দিল। গত বছর নভেম্বর থেকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা ইংলাককে পদচ্যুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইংলাক পদত্যাগ করলে বাণিজ্যমন্ত্রীকে তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।
ক্ষমতার অপব্যবহারের মামলায় ইংলাক মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে দোষ অস্বীকার করেন। তার পদক্ষেপে দল সুবিধা পেয়েছে এমন অভিযোগ নাকচ করেন তিনি।
কিন্তু আদালত এর বিরুদ্ধে রায় দিয়ে বলেছে, ইংলাকের পদক্ষেপে তার এক আত্মীয় উপকৃত হয়েছে। এক বিবৃতিতে বিচারক বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা শেষ হয়েছে। তিনি আর এ পদে থাকতে পারেন না”।
ইংলাকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরো ৯ মন্ত্রীকে পদত্যাগ করারও নির্দেশ দেয় আদালত।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নোপাদ্দম পাত্তামা বলেছেন, “আদালতের রায় মানা বাধ্যতামূলক। তাই আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া ছাড়া ইংলাকের আর কোনো উপায় নেই। কারণ, সংবিধানে বলা আছে সব পক্ষের জন্যই আদালতের বিচার মেনে নেয়া বাধ্যতামূলক”।
তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার বাদবাকী সদস্যরা নতুন মন্ত্রিসভা গঠন না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবে।
থাইল্যান্ডে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচন আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার পর এ মাসের শুরুর দিকে ক্ষমতাসীন দল নতুন করে জুলাইয়ে সাধারণ নির্বাচন ডেকেছে।
পাত্তামা বলেন, “থাই জনগণ যাতে তাদের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে সেজন্য সবারই এখন আসন্ন এ নির্বাচনের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত”।

শেয়ার