নারায়ণগঞ্জে অপহৃত সবাইকে একইভাবে হত্যা করা হয়

naraongonj
সমাজের কথা ডেস্ক॥ নারায়ণগঞ্জে ২৭ এপ্র্রিল অপহৃত সবাইকে একইভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন দুলাল চন্দ্র চৌধুরী উপস্থিত সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

নিহত সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

যাদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, তারা হলেন- প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার, মনিরুজ্জামান স্বপন, নজরুল ইসলামের সহযোগী তাজুল ইসলাম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিম।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা গেছে, নিহত সবাকেই একইভাবে হত্যা করা হয়েছে। সবাইকেই মাথায় আঘাত করে গলায় রশি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

তাদের বুকেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। হত্যার পরে লাশ যাতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য তাদের সবার পেটে নাভির পাশে ছিদ্র করে দেওয়া হয়েছিল।

সিভিল সার্জন দুলাল চন্দ্র চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, তাদের (নিহতদের) সবাইকে মাথায় আঘাত করে গলায় রশি পেঁচিয়ে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তাদের সবার বুকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সবাইকেই হত্যার পর পেটে নাভির পাশে ছিদ্র করে দেওয়া হয়; যাতে করে নদীতে ফেলে দেওয়ার পর লাশ ভেসে উঠতে না পারে।

কিন্তু, লাশের নাড়িভূড়িগুলো ওই ছিদ্র বন্ধ করে দেওয়ায় গ্যাস জমা হয়ে লাশ ভেসে উঠেছে।

তিনি জানান, সবার লাশ উদ্ধারের পর ৩০ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে লাশের ময়নাতদন্ত শুরু হয়। ময়নাতদন্ত শুরু হওয়ার ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে তাদের হত্যা করা হয় এবং হত্যাকা-ের কৌশল দেখে মনে হচ্ছে, এমন হত্যাকা- পেশাদার খুনি চক্র ছাড়া অন্য যে কোনো ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়।

এর আগে ৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

২৭ এপ্রিল রোববার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্যানেল মেয়র ও ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ পৃথকভাবে সাতজনকে প্রকাশ্য দিনেদুপুরে অপহরণ করে দুবৃর্ত্তরা।

ওইদিন সন্ধ্যায় অপহৃত নজরুল ইসলামের গাড়ি গাজীপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর রাজধানীর গুলশানের নিকেতন থেকে অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের গাড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।

এরপরে বুধবার দুপুরের পর থেকে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অপহৃত ছয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে বাকি একজনের লাশ একইভাবে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে মোট সাতজনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধসহ রোববার নারায়ণগঞ্জে হরতাল পালন করে জেলা আইনজীবী সমিতি।

এ ঘটনায় স্থানীয় র‌্যাব-১১-কে দায়ী করেন নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর। তিনি অভিযোগ করেন, ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে সাতজনকে হত্যা করা হয়েছে।

তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। মঙ্গলবার অভিযুক্ত তিন র‌্যাব সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

শেয়ার