চৌগাছায় সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে দেওয়ান পরিবারে ভাই-বোনের বিরোধ চরমে ॥ নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে একটি ভুমিদস্যু চক্র

chowgasa
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ চৌগাছা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে দেওয়ান মার্কেটের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ চরমে উঠেছে। মার্কেটের একাংশসহ ৩৩ শতক জমি দাবি করে বিক্রির ঘোষণা দেয়ায় বিরোধের বিষয়টি প্রকাশ্যরূপ নিয়েছে। ৩ বোন ও তাদের জামাইরা ইতিমধ্যে পৌর এলাকার বিশ্বাস পাড়ার মোস্তফার সাথে প্রতি শতক ৯ লাখ টাকা দরে মূল্য নির্ধারন করে ৩৩ শতক জমির বায়নাপত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বলে প্রচার দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে কম টাকায় মোটা অংকের সম্পত্তি হাতাতে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে মৃতের ৩ মেয়ে ও তাদের জামাইদের। এনিয়ে শালা-ভগ্নিপতিদের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এনিয়ে পরস্পর বিরোধী অভিযোগও পাওয়া গেছে। একপক্ষ বলছেন তারা পিতার স্বপ্ন ভেঙ্গে তচনছ করার ষড়যন্ত্র রুখতে চেষ্টা করছেন। অপরপক্ষের অভিযোগ ভাইরা তাদের বাপের সম্পত্তির দখল ও বিক্রিতে বাধা দিচ্ছে। তবে নেপথ্যে একটি চক্রের গুটি চালাচালির বিষয়টি বেশ স্পষ্ট এমন বক্তব্য স্থানীয় অনেকের।
জানা যায়, উপজেলার পৌর সদরের চৌগাছা-কোঁটচাদপুর সড়ক সংলগ্ন এলাকায় মৃত আমজাদ দেওয়ানের ১০৪ শতক জমি রয়েছে। এই জমির ওপর মাথা উচু করে দাড়িয়ে রয়েছে দেওয়ান নামে একটি ১ তলার মার্কেট। কাগজপত্রে এই সম্পত্তির সাবেক এসএ দাগ ১১১ মৌজার ৬৯ আরএস ৮৪১, হাল এসএ খতিয়ান ২৯৭, আরএস ৬৬৬ ডিপি ৬৮১ খতিয়ান। আমজাদ হোসেন এই জমির পশ্চিম পাশ ঘেঁসে গড়ে তোলেন একতলা একটি ভবন। এটি ছিল তার স্বপ্ন। স্বপ্নের ভবনের নামকরণ করেন দেওয়ান মার্কেট। সুত্রমতে. মার্কেটটিসহ তার এই সম্পত্তির ওপর স্থানীয় একটি চক্রের অনেক দিনের মোহ ছিল। কিন্তু আমজাদ হোসেন ঁেবচে থাকতে চক্রটি সুবিধা করতে পারেনি। সম্প্রতি তিনি মারা গেলে চক্রটি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তারা সম্পত্তি হাতাতে মৃতের ৪ মেয়ের মধ্যে ৩ জনকে পক্ষে টেনে সম্পত্তি বাগিয়ে নেয়ার কাজটি প্রায় পাকাপোক্ত করে ফেলেছেন। জানতে পেরে এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন মৃতের স্ত্রী লাইলী বেগম দুই ছেলে আওয়াল দেওয়ান, সরাফাত হোসেন মিঠু ও ছোট মেয়ে নাছরিন আক্তার। অভিভাবকের মৃত্যুর শোক না শুকাতেই চক্রের ফাঁদে পা ফেলেছেন মেয়ে রেহেনা খাতুন, শাহিনা খাতুন, আরিফা খাতুন ও তাদের জামাইরা। সম্পত্তি বিক্রির পায়তারা রুখে দিতে পরিবারটির অপর সদস্যরাও নানা কৌশলের আশ্রয় নেন কিন্তু শেষ রক্ষা হয়তো হবে না এমন মন্তব্য স্থানীয় অনেকের। কারণ চক্রের সদস্যরা আধঘাট বেধেই মাঠে নেমেছে। তারা উল্টো প্রচার করছে অসহায় ৩ মেয়েকে পিতার সম্পত্তি থেকে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করছে ভাইরা। তাদের মদদেই বর্তমানে ভাইদের সাথে মারমুখি অবস্থায় অবস্থান নিয়েছে ৩ বোন ও জামাইরা। মায়ের অনুরোধেও তাদের মন গলছে না। সম্প্রতি এক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে শালা ও ভগ্নিপতি পরস্পর হামলায় মারাত্বক জখম হন। মৃতের ৩ মেয়ে মার্কেটের একাংশসহ ৩৩ শতক জমির দাবি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে গত ৪ মে প্রতি শতক জমি ৯ লাখ টাকা দরে মূল্য নির্ধারণ করে পৌরসভার মগরেব বিশ্বাসের ছেলে জিএম মোস্তফা সাথে বায়নাপত্রে আবদ্ধ হয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। তবে স্থানীয়দের ধারণা জমির দাম ওঠাতে কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েচে। তাছাড়া চক্রের সদস্যরাও জানেন এত টাকার কথা শুনলে দেওয়ান পরিবারের কেউ-ই জমি কিনতে রাজি হবে না। তারা বাইরে বিক্রির পক্ষেই মত দেবেন। তখন বোনদের সাথে গোপন চুক্তি মোতাবেক কম টাকায় লোভনীয় এই সম্পত্তি বাগিয়ে নেয়া সহজ হবে। চক্রটির সহোযোগীতায় মার্কেটের একাংশে সীমানা প্রাচীরও দিয়েছেন ৩ বোন। রাতের আঁধারে কে বা কারা তা ভেঙ্গেও দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এরা কারা ? স্থানীয়দের সাফ জবাব যারা কম টাকায় সম্পত্তি হাতাতে চান তারা দেওয়ান পরিবারে বিরোধ তুঙ্গে তুলে দিতেই নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। বাস্তবে হচ্ছেও তাই। মনের কস্টে দেওয়ান পরিবারের কেউ-ই কথা বলতে চাচ্ছেন না। তাদের কষ্ট অভিভাবকের স্বপ্ন ভেঙ্গে তছনছ হতে চলেছে। আইন মোতাবেক বাপের সম্পত্তির অংশীদার মেয়েরাও। সেই মেয়েরা শোক না শুকাতেই বাইরের মদদে বিক্রি করতে চাইলে তাদের রুখবে কে ? বাধা দিয়ে বেশিদিন ঠেকিয়ে রাখাও সম্ভব না। ভাইদের হয় চড়া দামে কিনতে হবে না হলে ধবংসযজ্ঞ দুচোখে দেখতে হবে এছাড়া আর কোন উপায় খোলা নেই দেওয়ান পরিবারের। এদিকে মৃত আমজাদ দেওয়ানের মেয়ে শাহিনা খাতুনের দাবি তারা ৩ বোন মিলে ভাইদের কাছে কেনার প্রস্তুাব দিয়েছিলেন কিন্তু তারা আমাদের কোন কথা আমলে নেয়নি। নিরুপায় হয়ে তারা বিক্রির বায়নাপত্রে সই করেছেন। দেওয়ানভক্তরা মনে করেন কোন সন্তানেরই উচিত না পিতার স্বপ্ন ভেঙ্গে তছনছ করা। ইচ্ছে থাকলে ভাই-বোনরা আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে পারে।

শেয়ার