আশাশুনিতে দুই বছরের শিশু কন্যাকে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা

attohotta
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সাতক্ষীরায় আশাশুনিতে দেড় বছরের শিশু কন্যা সন্তানকে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে হত্যার পর একই রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে মা নিজেই। সোমবার রাতে সাতীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর একসরা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আত্মহননকারি গৃহবধূর নাম পারভিন সুলতানা (২৪)। সে আশাশুনি উপজেলার উত্তর একসরা গ্রামের বেলাল হোসেন গাজীর দ্বিতীয় স্ত্রী। শিশু কন্যার নাম রুপা খাতুন (২)।
আনুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মধ্যম একসরা গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, আশাশুনি উপজেলার উত্তর একসরা গ্রামের দীন আলী গাজীর ছেলে বেলাল হোসেন গাজী প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় খুলনার দাকোপ উপজেলার গুনিরিয়া গ্রামের পারভিন সুলতানাকে চার বছর আগে বিয়ে করে। বিয়ের পর বেলাল তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে সাতীরা শহরের গড়েরকান্দা এলাকায় নিজের বাড়িতে বসবাস করতেন। কিন্তু বছর খানেক পর প্রথম স্ত্রী জহিরুন্নেছার সঙ্গে পারভিনের ঝগড়াঝাটি হওয়ায় বেলাল তাকে গ্রামের বাড়ি উত্তর একসরায় বাবা-মা’র কাছে রেখে আসে। এরপর থেকে বেলাল নিয়মিত পারভিনের কাছে আসা যাওয়া করতো। কিন্তু বেশ কিছুদিন আগে থেকে পারভিন সাতীরা শহরে তার নামে আলাদা একটি বাড়ি করে দেয়ার জন্য স্বামী বেলালের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এক পর্যায় বেলাল তাকে জানায়, তার বাবা-মা যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন তাকে গ্রামে বসবাস করতে হবে। পরে সাতীরা শহরে আরেকটি বাড়ি করে তাকে নিয়ে আসা হবে। কিন্ত স্বামীর এই আশ্বাসে মোটেও সন্তষ্ট হতে পারেনি সে। স্বামীর কথায় ুব্ধ হয়ে অভিমানে পারভিন সোমবার রাতে ঘরের ছাদের কড়ির সাথে রশি বেধে প্রথমে তার দুই বছরের মেয়ে রূপাকে ঝুলিয়ে দিয়ে পরে একই রশিতে নিজেও গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।
গতকাল মঙ্গরবার সকালে পারভিন ঘুম থেকে উঠছে না দেখে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা তাকে ডাকাডাকি করে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে এক পর্যায় ঘরের দরজা ভেঙে দেখে মা-মেয়ে দু’জনই রশিতে ঝুলছে। খবর পেয়ে আশাশুনি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান হাবিব ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মনোকষ্টে গৃহবধূ আতœহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

শেয়ার