অভয়নগরে দুই সন্তানের জননী এক পুত্রবধূকে পিটিয়েছে যৌতুকলোভী শ্বশুর

Digital Camera
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি॥ অভয়নগরের ডুমুরতলা গ্রামের অভিমান্য ওরফে মান্য বাওয়ালী তার একমাত্র পুত্রবধূ দুই সন্তানের জননী সাধনা বাওয়ালীকে পিড়ে দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। পিতার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনতে না পারায় এই নির্যাতনের কারণে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ভাত দিতে দেরি হওয়ায় মান্য তার বউমাকে রাগ সামাল দিতে না পেরে পিটিয়েছেন বলেও কেউ কেউ দাবি করেছেন। বর্তমানে পিতার বাড়ি একই উপজেলার রামসরা গ্রামে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই হতভাগী জননী। কিন্তু তারপরও এই হতভাগী স্বামীর ঘর করতে চান। সুস্থ্য হয়েই ফিরতে চান শ্বশুর বাড়ির ভিটেই। কিন্তু সাধনা এই নির্যাতন মানলেও দেশের প্রচলিত আইনে বিচার হতে হবে এমন দাবি গ্রামবাসির। প্রয়োজনে মানবাধিকার সংগঠন লিগ্যাল এইডে’র শরণাপন্ন হতে চান যৌতুক বিরোধী একদল মানুষ। তবে এসব কিছুতে সাধনার সহযোগীতা পাওয়া না গেলে যৌতুকলোভীদের আইনের আওতায় আনা কঠিন হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
স্থানীয়রা জানান উপজেলার রামসরা গ্রামের বারিন বিশ্বাস তার মেয়ে সাধনাকে ৬ বছর আগে বিয়ে দেন একই উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের মধ্যবৃত্ত কৃষক অভিমান্য(মান্য) বাওয়ালীর এক মাত্র পুত্র হরেবিলাসের সাথে। অনেকের ধারণা বারিন বিশ্বাসের কোন পুত্র সন্তান না থাকায় মান্য বাওয়ালী সম্পত্তির লোভে ছেলেকে ওই পরিবারে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় সোনা-গহনা, সংসারের মালামাল ও নগদসহ প্রায় লাধিক টাকা খরচ করেছিলেন সাধনার পরিবার। কিন্তু বিয়ের পর অভিমান্য জানতে পারেন বউমার বাবা কাঠ মিস্ত্রীর কাজ করে সংসার চালান। সামান্য জমি জমা ছাড়া কোন ব্যাংক ব্যালান্স নেই। এরপর থেকে সাধনার ওপর শাররিরক ও মানষিক নির্যাতন শুরু হয়। এতে স্বামী হরেবিলাস নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছেন। গৃহবধূ সাধনা বাওয়ালী জানান গত রোববার রাতে শ্বুশুরকে ভাত দিতে দেরি হওয়ার কারনে শ্বশুর তাকে পিড়ে দিয়ে পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে গলা টিপে ধরে। এতে তার কণ্ঠনালী ভেঙ্গে যায়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি পিতার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রকৃত সত্য হচ্ছে যৌতুক আনতে পারছে না বউমা। একারণে নানা ছুতো ধরে বউমাকে নির্যাতন দেন শ্বশুর-শ্বাশুরি। তবে এবার এর কিছু একটা করতে চান এলাকার যৌতুক বিরোধীরা। তারা সাধনার সাই পেলেই আদালতে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা করবেন। তবে এখনো সাধনা তার স্বামীর সংসার করতে চান। চান সন্তানদের মানুষ করে তুলতে। এ ব্যাপারে কসাই শ্বশুর-শ্বাশুরির ব্যাপারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের আন্তরিক ভুমিকা রাখা প্রয়োজন।

শেয়ার