নির্যাতনের নেতৃত্বে ছিলেন এটিএম আজহার

azahar
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের দুই সাক্ষী। তারা হলেন ১১তম সাক্ষী সাখাওয়াত হোসেন রাঙ্গা ও ১২তম সাক্ষী রফিকুল হাসান নান্নু। তারা সহোদর ভাই।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দেন দুই সাক্ষী। সাক্ষ্যগ্রহণে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে উভয় সাক্ষীকে সংক্ষিপ্ত জেরা করেন এটিএম আজহারের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।
সাক্ষ্যে ১১তম সাক্ষী রংপুর জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন রাঙ্গা বলেন, তিনি একটি রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়েছেন। ছয় ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ ভাই রফিকুল ইসলাম নান্নু ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রংপুর শহরের বাসার পাশে একটি খোলা জায়গায় বন্ধুদের নিয়ে খেলধূলা করছিলেন তিনি। এ সময় পাশের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে রংপুর জেলা আলবদর বাহিনীর প্রধান এটিএম আজহারুল ইসলাম উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিলেন।
এটিএম আজহারকে আগে থেকেই চিনতেন উল্লেখ করে সাক্ষী বলেন, তাকে (আজহারকে) দেখে আমি ‘জয়বাংলা’ বলে চিৎকার করি। ‘জয়বাংলা’ শুনে এটিএম আজহার মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে আমরা যেখানে খেলাধূলা করছিলাম সেখানে এসে আমাকে ডাকেন। আমি আজহারের কাছে গেলে প্রচ- জোরে তিনি আমাকে থাপ্পড় দেন। আমি তখন চার-পাঁচ হাত দূরে ছিটকে পড়ি। এ ঘটনায় পরিবারের সবাই বিচলিত হয়ে পড়েন।

সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালের ১ মে আমার চতুর্থ বড়ভাই রফিকুল হাসান নান্নু একটি বিশেষ প্রয়োজনে রংপুর শহরের জেরিন টেইলার্সে গেলে কালো কাপড় পরা কয়েকজন তাকে পেছন দিক থেকে আঘাত করেন। তারা সবাই ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্য ছিলেন।

সাক্ষী বলেন, এরপর তারা আমার ভাইয়ের হাত বেঁধে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সেখানে এটিএম আজহার এসে উপস্থিত হন এবং তার নির্দেশে তারা আমার ভাইকে কালো কাপড় ঘেরা রিকশায় উঠিয়ে সেন্ট্রাল রোডে আলবদর বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাথরুমে ফেলে রাখেন। বেলা ১১টার দিকে আমার ভাই নান্নুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্যাতন শুরু করেন।

শেয়ার