‘তোর মাকে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেললে টের পাবি’

DMCH
সমাজের কথা ডেস্ক॥
‘তোর মায়েরে যদি ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলি তুই কী টের পাবি।’ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফট থেকে না নামায় খন্দকার শহিদুজ্জামান মিরাজ নামে এক রোগীর ছেলেকে এভাবেই হুমকি দেন এক ইন্টার্ন চিকিৎসক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১০ দিন ধরে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনে ব্রেন স্ট্রোকের চিকিৎসা নিতে সেলিনা বেগম নামে এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার হাসপাতালে তাকে দেখতে যান তার ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শহিদুজ্জামান মিরাজ।
এসময় ওই ভবনের লিফট দিয়ে নিচে নামতে চাইলে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বাধা দেন। মিরাজ নামতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেন।
এক পর্যায়ে সেখানে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মিরাজের সঙ্গে থাকা তার বন্ধু-বান্ধবদের মারধর করেন।
মিরাজ জানান, হাসপাতালের ওই ভবনের ৯ তলা থেকে নামার সময় ৭ম তলায় লিফটটি আটকে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
এসময় তারা মিজানসহ অন্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন,‘নেমে যান, এখনি নামেন। সিড়ি দিয়ে যান। এটা ডাক্তারদের লিফট।’
এক পর্যায়ে এক ইন্টার্ন চিকিৎসক মিরাজকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠেন,‘ তোর মায়েরে যদি ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলি তুই কী তখন টের পাবি।’
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ঢামেক পরিচালক ব্রি. জে. মোস্তাফিজুর রহমান আলোচনায় বসেন। সেখানেও শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন ইন্টার্নরা। এদিকে এ ঘটনার জের ধরে বিক্ষুদ্ধ কয়েকজন ছাত্র জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালায়। এরপর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে জরুরি গেট বন্ধ করে দিয়েছেন ইর্ন্টান চিকিৎসকরা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ কর্মীরা সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে হঠাৎ তাদেরকেও ধাওয়া দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

শেয়ার