তদন্তের পর ৫ বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

High court
সমাজের কথা ডেস্ক॥
সুপ্রিম কোর্টের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএ) কমিটির চিঠির পর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পাঁচ বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে শিগগিরই।

অর্থঋণ আদালতের পক্ষপাতমূলক রায়সহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুল মজিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে আইন মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক বাংলানিউজকে বলেন, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান আইন সচিব।

আব্দুল মজিদ ছাড়া অভিযুক্ত অন্যরা হলেন, ঢাকার অর্থঋণ আদালত-১ এর সাবেক বিচারক (যুগ্ম জেলা জজ) মো. রবিউজ্জামান, ঢাকার অর্থঋণ আদালত-২ এর সাবেক বিচারক যুগ্ম জেলা জজ আল মামুন, বর্তমানে সিলেটে কর্মরত ঢাকার সাবেক যুগ্ম জেলা জজ ইফতেখার বিন আজিজ ও বর্তমানে ঢাকার সহকারী জজ মো. আবদুল্লাহ আল মাসুম।

এছাড়া ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ পাটোয়ারির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কুমিল্লাতে কর্মরত রয়েছেন।

এ বিষয়ে জিএ কমিটির বৈঠকের পর গত ২৮ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে অভিযুক্ত পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, গত ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জিনাত আরা ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত পরিদর্শনে যান। ওই সময় পাঁচ বিচারক ও সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মেলে।

অভিযোগে জানা গেছে, অর্থঋণ আদালতের দু’জন বিচারক নোটিশ সঠিকভাবে না পাঠিয়ে ব্যাংকের পক্ষে একাধিক রায় দিয়েছেন। এছাড়া একজন বিচারক একটি রায়ের সব জায়গায় খারিজ উল্লেখ করলেও আদেশের জায়গায় ডিক্রি প্রদান করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

এছাড়া বিচারপতি জিনাত আরা পরিদর্শনে যাওয়ার খরচের টাকা বাবদ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শফিউল্লাহ পাটোয়ারি আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে চাঁদা উঠিয়েছেন।

পরিদর্শনের সময় হাইকোর্টের ওই বিচারপতি সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে তাতেও সদুত্তর মেলেনি।

পরিদর্শন শেষে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন বিচারপতি জিনাত আরা। প্রতিবেদনে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরেন তিনি।

শেয়ার