ঝিনাইদহে বাস-মিনিবাস শ্রমিক নেতা আব্দুল গাফ্ফার খুন॥ আজ হরতাল

jhinaidah
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহ জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গাফ্ফার বিশ্বাসকে (৫২) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুবৃর্ত্তরা। সোমবার ভোর ৪টার দিকে জেলা শহরের আরাপপুরের উকিলপাড়ায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গাফফার কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের মৃত বাবর আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক লীগেরও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি ঝিনাইদহ শহরের আলহেরাপাড়ায় বসবাস করতেন। জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।
নিহত শ্রমিক নেতার মেয়ে রূপনা খাতুন জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে তিনি কয়েক জন শ্রমিকের সাথে বাসা থেকে বের হন। রাতে আর বাড়ি ফেরেন নি। ভোরে তারা বাবার খুনের খবর পান।
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাবুদ্দিন আজাদ জানান, তাকে রাত ১২টার দিকে শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যাণ্ডে হাফিজ নামে এক শ্রমিকের সাথে একটি চায়ের দোকানে চা খেতে দেখা যায়। ভোর ৪টার দিকে আরাপপুর উকিলপাড়া মোড়ে তাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। তখনও তিনি জীবিত ছিলেন। পথচারীদের সহায়তায় টহল পুলিশ তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোজাম্মেল হক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। ঘটনার তদন্ত চলছে।
ঝিনাইদহের সহকারী পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এ কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। আবার শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে বিরোধের সুযোগে তৃতীয় প ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও তিনি ধারণা করেন। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
শ্রমিকদের একটি সূত্র জানায়, রোববার রাত ১০টার দিকে এক শ্রমিক গাফ্ফারকে মোটরসাইকেলে করে আরাপপুর উকিলপাড়ায় নামিয়ে দিয়ে আসে। এরপর ভোরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঝিনাইদহ বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আবদুল গাফ্ফার বিশ্বাস। নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দের কারণে তিনি সাময়িক ভাবে বহিস্কৃত হন। রোববার প্রশাসনের সহায়তায় দুই পরে মধ্যে শ্রমিক সমঝোতার মাধ্যমে গাফ্ফার গ্র“প ইউনিয়ন অফিসের কর্তৃত্ব ফিরে পান।
এদিকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শ্রমিক নেতা আব্দুল গাফফার বিশ্বাস হত্যার প্রতিবাদে সকালেই পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে বিুব্ধ শ্রমিকরা। এতে করে ঝিনাইদহের সাথে সব রুটের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দূর দূরান্তের যাত্রীরা ঝিনাইদহ শহরে আটকা পড়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরিবহন ধর্মঘট ডেকে শ্রমিকরা রাস্তায় শুয়ে বিােভ শুরু করে। এসমসয় দুটি বাস ও চারটি ইজিবাইক ভাঙচুর করে বিুব্ধ শ্রমিকরা। এদিকে হত্যাকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত সব রুটে যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জল বিশ্বাস জানিয়েছেন। আব্দুল গাফফার বিশ্বাস হত্যার জের ধরে ঝিনাইদহে বিবদমান বাস শ্রমিকদের দুটি গ্র“পের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ঝিনাইদহ জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল গাফ্ফার বিশ্বাসের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিােভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিুব্ধ শ্রমিকরা। এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যাণ্ডে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে নিহত শ্রমিক নেতার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাযা শেষে তার লাশ নিয়ে শহরে বিােভ মিছিল বের করে শ্রমিকরা। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদণি করে পোষ্ট অফিস মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে শত শত নেতাকর্মী গাফফার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন। পরে পায়রা চত্ত্বরে এক সমাবেশে জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি হবিবুর রহমান হবু ও শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জল বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আবদুল গাফফার বিশ্বাসের খুনিরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত ঝিনাইদহের উপর দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া মঙ্গলবার আধাবেলা সর্বাত্মক হরতাল পালনের জন্য সব শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি আহবান জানান।
এদিকে সোমবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয়ে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গাফ্ফার বিশ্বাসকে ঐক্য পরিষদের এক জরুরী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিষদের সভাপতি আলহাজ্জ্ব হবিবর রহমান হবু’র সভাপতিত্বে সভার শুরুতেই এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক মানোয়ার হোসেন, সাবেক সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সাগর, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জল বিশ্বাস ,আব্দুল কুদ্দুস,একরামুল হক লিকু, ঝিনাইদহ পৌর-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হান্নান, অলিয়ার রহমান, মন্টু মিয়া, জব্বার মিয়া, ছাবদার আলী, আজগর আলী, নজরুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, রাশেদ, রোজদার আলী, লিটন মিয়া, মিজানুর রহমান, নিখিল মজুমদার, আবুবকর, বাদশা মিয়া, শিমুল, ইসলাম মিয়া প্রমুখ।

শেয়ার