অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক ছাড় নয়

shongshodio sthai komiti
সমাজের কথা ডেস্ক॥
নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত অপহরণ ও খুনের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে সাত খুনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ করে কমিটি।

এ নৃশংস হত্যাকা-ে জড়িতরা যতো ‘ক্ষমতাবান’ হোক তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। এতে যদি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য কিংবা রাজনৈতিক কেউ জড়িত থাকেন তাহলে তাকেও ছাড় না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি’র ২য় বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সির সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, মোজাম্মেল হোসেন, শামসুল হক টুকু, ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কামরুন নাহার চৌধুরী প্রমুখ।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সী সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধী যতো ক্ষমতাবান হোক, তাকে দ্রুত ধরে শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা সুপারিশ করেছি। জড়িতরা রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হলেও কোনো ছাড় নেই। আর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে আমরা বিব্রত। এ ঘটনার সত্য উদ্ঘাটন ছাড়া বিকল্প আর কোনো রাস্তা নেই। এসব বিষয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালককে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি আমরা।

কমিটির সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, অপরাধীরা অনেক সময় রাজনৈতিক ব্যানার ব্যবহার করে। আমরা সে বিষয়ে বৈঠকে কথা বলেছি। আমাদের দলের কোনো নেতা-কর্মী সম্পৃক্ত থাকলেও ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয় নিয়ে বৈঠকে জোর আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে অবৈধ মাদকদ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাজে গতি সঞ্চারের জন্য ১ হাজার ৭২২টি পদ সম্বলিত অর্গানোগ্রাম সৃজনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।

বর্তমানে বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়া অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন প্রদত্ত ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাকে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

কমিটি মাদক চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য ব্যবহার বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। এছাড়া ছিনতাই, খুন, অপহরণ, জঙ্গিতৎপরতাসহ যেকোন ধরনের সন্ত্রাস ও অপরাধ বন্ধে পুলিশ, র‌্যাবসহ সকল নিরাপত্তাবাহিনীকে আরও সক্রিয় ও সতর্ক ভূমিকা পালনের পরামর্শ প্রদান করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহা-পুলিশ পরিদর্শক, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহা-পরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার