শুল্ক গুদামে কোটি টাকার পণ্য পাচারের ঘটনা ডাকাতি বলে ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা ॥ তদন্ত কমিটি গঠন

gudam
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে কাস্টমসের বিভাগীয় শুল্ক গুদাম থেকে কোটি টাকার মালামাল পাচারের ঘটনা ডাকাতি বলে ধামাচাপা দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। যদিও গুদাম ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শম্ভুনাথ ঘটনার তিনদিন পর ২৪ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল ডাকাতি হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তবে দিনে দুপুরে গোডাউনের সকলকে জিম্মি করে একটি সরকারি অফিস থেকে ডাকাতির ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে করছেন স্বয়ং কাস্টমসের কর্মকর্তারা।
যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার কাস্টমসের বিভাগীয় শুল্ক গুদামের পরিদর্শক শম্ভুনাথ দে জানিয়েছেন, ৩০ এপ্রিল সাড়ে ১২ টার দিকে বিজিবি সদস্যরা ভারতীয় মালামাল আটক করে গুদামে জমা দেয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গুদামের প্রাচীর টপকিয়ে ৮/১০ জন দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে তাকে ও কয়েকজন লেবারকে জিম্মি করে। এরপর তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে অফিস রুমের একটি কক্ষে আটকে রাখে। ৪ নম্বর রুমের চাবি নিয়ে তাল খুলে সেখানে রাখা বিপুল পরিমান কাপড় নিয়ে যায়। পরে ভয়ে তিনি খুলনায় চলে যান। শনিবার তিনি বিষয়টি কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মেহবুব হককে জানান। এবং কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
গুদামে দায়িত্বরত সিপাহি রফিকুল ইসলাম ও লেবার আকবর আলী জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিজিবি সদস্যরা মালামাল জমা দেয়ার জন্য আসে। তারা চলে যাওয়ার পরপরই দু’টি গেট খুলে ডাকাতরা প্রবেশ করে। এরপর অস্ত্রের মুখে সকলকে জিম্মি করে ভারতীয় কাপড় লুট করে নিয়ে যায়।
মূলত ঘটনার দিনে শম্ভুর ইন্ধনে ও পরিকল্পনা মোতাবেক সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢোকে। বাইরে ছিল একটি কাভার্ড ভ্যান। তারা ৪ নম্বর রুমের তালা খুলে বিপুল পরিমান মালামাল লুট করে। যার মূল্য কোটি টাকা। এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য শম্ভুনাথ দে ডকাতির নাটক সাজিয়েছেন।
এ বিয়য়ে রোববার দুপুরে শম্ভুনাথ দে একটি লিখিত অভিযোগ কাস্টমসের বিভাগীয় সুপারেন্টেডেন্ট আমিরুল ইসলামের কাছে দিতে যান। কিন্তু ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে হলে ওই কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেন নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মেহবুব হক দৈনিক সমাজের কথাকে জানিয়েছেন, বিভাগীয় শুল্ক গুদামে ডাতাতির ঘটনা শুনেছি। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। চার সদস্যের কমিটির প্রধান হলেন সুপার শাহ আলম। অন্যরা হলেন সুপার আসমা খাতুন, ইন্সপেক্টর হাফিজুর রহমান ও ইন্সপেক্টর জাহিদুল ইসলাম। তারা দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে রিপোর্ট দেবেন।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ জানিয়েছেন, ঘটনার তিনদিন পর থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে ডাকাতির ঘটনা না-কি অন্য কিছু।

শেয়ার