রামপালে দেশের প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে ক্যান্সার হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র॥ জমির দলিল হস্তান্তর

hospital
বাগেরহাট প্রতিনিধি॥ দেশে এই প্রথম কোনো বেসরকারী উদ্যোগে বাগেরহাটের রামপালে নির্মিত হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র। হাসপাতালের জন্য ৮.২০ একর জমির দলিল সরকারের পক্ষে ভূমি মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসাইন শনিবার উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ‘আমাদের গ্রাম’র পরিচালক রেজা সেলিমের হাতে হস্তান্তর করেছেন। এ উপলক্ষে রামপাল সদর ইউপি কার্যালয়ের সামনে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আলহাজ্জ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মু: শুকুর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আইসিডিডিআরবি’র গবেষক ড. লরেন, রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবু সাঈদ, ইউএনও সুব্রত সিকদার, ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, হোসনেয়ারা মিলি, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উৎপল দেবনাথ, মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল জলিল, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ বজলুর রহমান, হাওলাদার রফিকুল ইসলাম বাবুল, শেখ মোজাফ্ফার হোসেন, শেখ লুৎফর রহমান প্রমুখ। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বিপুল উৎসাহে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। রামপালের ঝনঝনিয়ায় দাউদখালি নদীর চরে ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে ২’শ শয্যার এই হাসপাতাল ও ক্যন্সার গবেষণা কেন্দ্র ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। ১ অক্টোবর থেকে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ৩ বছরের মধ্যে ভবনের নির্মান কাজ শেষে আন্ত:বিভাগ চালু হবে আশা করছেন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা ফাউন্ডেশন, ওআইও টেষ্ট ইউনিভার্সিরসিটি এবং মাইক্রোসফট-এর অর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত সম্পূর্ণ সেবামূলক এ প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব আয়ের উপর পরিচালিত হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি বলেন, মহতি এ উদ্যোগের ফলে দেশের স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। বিশেষ করে অবহেলিত দক্ষিনাঞ্চলে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে মাইলফলক হবে এই ক্যান্সার হাসপাতাল। ক্যান্সারে আক্রান্ত দরিদ্র মানুষের কল্যাণে হাসপাতালটি সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবে। গরীবের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা রাখারও পরামর্শ দেন এমপি আব্দুল খালেক। তিনি বলেন প্রাথমিকভাবে রোগ সনাক্ত ও চিকিৎসা সহজ হওয়ায় অনাকাঙ্খিত মৃত্যুহার কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, খুলনা-মংলা মহা-সড়কসংলগ্ন হওয়ায় এখানে বরিশাল, ফরিদপুর, যশোর, খুলনাসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সহজেই চিকিৎসা নিতে আসতে পারবেন। পদ্মাসেতু ও খানজাহান আলী (র) বিমান বন্দর চালু হলে দেশের সব অঞ্চলের মানুষ অতি সহজে এই হাসপাতালের সেবা গ্রহণ করতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেয়ার