রগকাটার পুরনো পথে শিবির

Sibir
আবারও শিার্থীদের রক্ত ঝরল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এবার টগর ও মাসুদ নামে দুই ছাত্রের হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছে শিবির। দু’জনই ছাত্রলীগ কর্মী। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, কাসে যোগ দিতে তারা হবিবুর রহমান হলের পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। শিবির ক্যাডাররা অতর্কিত ককটেল ফাটিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। দু’জনই এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম হত্যাকান্ডের ২৫ দিনের মাথায় আবারও এই নির্মম ঘটনাটি ঘটল। রুস্তম হত্যাকান্ডেও শিবিরের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। শুধু ছাত্রই নয়, অতীতে শিক হত্যার অভিযোগও রয়েছে এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে।
ছাত্রশিবিরের এহেন নৃশংসতা নতুন নয়, শুরু তিন যুগ আগে। জানা যায়, ১৯৭৭ সালে ছাত্র শিবির নামে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর শুরু- যা এখনও চলছে। তবে ১৯৮১ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা তবারক হোসেনকে খুন করার মাধ্যমে তাদের খুনের রাজনীতির শুরু হয়। আর রাজশাহীতে শুরু হয় ১৯৮৮ সালের ৩১ মে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি জামিল আকতার রতনকে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যার মধ্য দিয়ে। এক তথ্যে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশ এলাকায় ছাত্র শিবির প্রতিপরে ১৫ নেতাকর্মীর হাত ও পায়ের রগ কেটেছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার টগর ও মাসুদের ওপর নিষ্ঠুর আক্রমণ করে।
জামায়াত একটি নিবন্ধনপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দল, ছাত্রশিবির তার নিয়ন্ত্রণাধীন বিধিবদ্ধ ছাত্র সংগঠন। এই সংগঠনের কার্যক্রম হওয়া উচিত নিয়মতান্ত্রিক, সেটা প্রত্যাশিতও। রগ কাটা, জবাই, সহিংসতা ইত্যাদি পন্থা অবলম্বন কখনই কোন নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠনের কাজ হতে পারে না। জামায়াত-শিবির কর্মীদের সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ও কৌশলী হতে হবে। রাজশাহীর সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা কাম্য নয়। কেউ আইনের উর্ধে নয়, এই নীতিতে অটল থেকে যে কোন বিশৃঙ্খলা মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপকে কাজ করতে হবে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে; দেশের মানুষ এমনটাই প্রত্যাশা করে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্মম ঘটনায় নতুন করে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দেশব্যাপী যে সহিংসতার বিস্তার ঘটেছে, সেই প্রোপটে রগকাটার পুরনো পন্থায় সংগঠনটি ফিরে এলো কিনা? এই ঘটনার নেপথ্যে গভীর কোন ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন জাগে? কারণ, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ঘোষণার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিবিরের চোরাগোপ্তা হামলা, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যসহ অসংখ্য মানুষকে নৃশংস কায়দায় কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা, ট্রাক-বাস-সিএনজি চালকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়া, চলন্ত বাসে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা, হাজার হাজার গাছ কেটে পরিবেশের ব্যাপক তি করা; এসব চিত্র মানুষ এখনও বিস্মৃত হয়নি। সেই অবস্থা ফিরে এলে চলমান পরিস্থিতিকে নাজুক ও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতি কারও কাম্য কখনই হতে পারে না। রগকাটার যে উদাহরণের পুনরাবৃত্তি ঘটানো হলো তার অবসানকল্পে হোতাদের চিহ্নিত ও শাস্তি দেয়া জরুরী।

শেয়ার