নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়েছে বাহিনী প্রধান সাত্তার মোড়লসহ ৮ সহযোগী ॥ অত্যাধুনিক স্পিড বোর্ট ট্রলার জার্মানি বন্দুক বিপুল পরিমাণ গুলি ও হরিণের মাংসসহ ৪ শিকারী আটক

speed boat
এসএম আহম্মাদ উল্যাহ বাচ্চু কালিগঞ্জ॥ বনবিভাগের বিশেষ অভিযানে সুন্দরবনের হরিণ শিকারদলের প্রধান কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গ্রামের সাত্তার মোড়লসহ তার বাহিনীর অন্তত: ৭ সদস্য নদীতে ঝাপ দিয়ে পালাতে পারলেও ধরা পড়েছে ৪ জন। তাদের কাছ থেকে সাত্তার মোড়লের অত্যাধুনিক একটি স্পীড বোর্ড, একটি ট্রলার জার্মানী তৈরি বন্দুক, ৪৮ রাউন্ড বন্দুক ও ২০ রাউন্ড- পিস্তলের গুলি উদ্ধার হয়েছে। এ সময় ২০ কেজি কাচা ও ৫ কেজি রান্না হরিণের মাংস জব্দ করা হয়। শনিবার বিকেলে খুলনা রেঞ্জের পাট কোষ্টা ফরেষ্ট অফিসের আওতাধীন পাঠাকাটা নামক স্থানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
খুলনা রেঞ্জের সহকারি বনসংরক্ষক (এসিএফ) তৌফিকুল ইসলাম জানান তাদের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত শিকারী সাত্তার মোড়লের বাড়ির কেয়ার টেকার কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গ্রামের আব্দুর রহিম মোড়লের ছেলে হাসান মোড়ল (২৫), নোয়াখালি জেলার বেগমপুর উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের এবিএম জয়নাল আবেদীনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম স্বপন (৫০), খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার ছোট আংটিহারা গ্রামের কওছার গাজীর ছেলে আকবর গাজী (২৫) ও একই জেলার পাইকগাছা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের শেখ আব্দুল বারিকের ছেলে বাবলুর রহমান (৫০) আটক হয়েছে। সুত্রমতে. খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় হরিণ শিকারী আব্দুস সাত্তার মোড়লের বাড়ির কেয়ারটেকার হাসান মোড়ল আটকের পর রোববার খুলনার দাকোপ থানায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি জানান (এক্সট্রা জুডিশিয়াল তদন্ত), তার গৃহকর্তা সাত্তার মোড়লসহ ১২ সদস্যের একদল হরিণ শিকারী শুক্রবার বিকেলে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনি খেয়াঘাট থেকে একটি ট্রলার ও একটি স্পীড বোর্টে করে সুন্দরবনে হরিণ শিকার করতে যান। শিকারের জন্য শ্যামনগরের কুখ্যাত হরিণ শিকারী সাত্তার মোড়লের শিক্ষা গুরু শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালি গ্রামের আজিজ শিকারীর জার্মানী তৈরি বন্দুক ছাড়াও আরও ৩টি বন্দুক ও ৩টি পিস্তল আনা হয়। সাত্তার মোড়লের অন্যতম দেহরক্ষী জনৈক সুভাষ ঘোষ এসব প্রস্তুত করার দায়িত্ব পালন করেন। ট্রলার চালকের দায়িত্ব পালন করেন তার প্রতিবেশি ছৈলদ্দিন শেখের ছেলে বাচ্চু শেখ। হাসান মোড়ল আরো জানান, ৩টি হরিণ শিকার শেষে শনিবার বিকেলে তারা খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান এলাকায় পাট কোষ্টা টহল ফাঁড়ির নিকটে পাঠাকাটা নামকস্থানে হরিণ শিকারের জন্য অবস্থান করছিলেন। এ সময় খুলনা রেঞ্জের বনসংরক্ষক (ডিএফও) জহিরউদ্দিনের নেতৃত্বে বনবিভাগের কর্মকর্তারা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় সাত্তার মোড়লসহ ৮জন শিকারী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে বনের মধ্যে পালিয়ে যায়। আজিজ শিকারীর বিদেশী বন্দুকসহ গোলাবারুদ, কাচা ও রান্না মাংস ট্রলার ও স্পীড বোর্ডসহ তিনি ও আরও ৩ জন ধরা পড়েন। সাত্তার মোড়লসহ পলাতকদের জনৈক মিলন নামে এক বনকর্মী সহযোগীতা করেন বলে সুত্রে জানা যায়। খুলনা রেঞ্জের সহকারি বনসংরক্ষক (এসিএফ) তৌফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় পাটকোষ্টা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাহারুল হক বাদি হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮ জনের নামে বনআইনে মামলা রেকর্ড করেছেন। তবে আব্দুস সাত্তার মোড়ল দাবি করেছেন তিনি কোনদিনও হরিণ বা বন্যপ্রাণী শিকারের সাথে জড়িত ছিলেন না। আটককৃত ট্রলার ও স্পীড বোর্ড তার নয় দাবি করে তিনি বলেন, আমি ট্রলারের ব্যবসা করি না। একটি মহল সুনাম নষ্ট করতে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে। খুলনা রেঞ্জের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র রক্ষায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

শেয়ার