জার্গেনসেন অধ্যায়ের অবসান

BCB 1
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বাংলাদেশের ক্রিকেটে শেষ হয়ে গেল শেন জার্গেনসেনের যুগ। অস্ট্রেলিয়ার এই কোচের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান।
সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোর্ডের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান দ্রুত নতুন কোচ নিয়োগ দেয়ার কথাও বলেন।

“জার্গেনসেনের সঙ্গে আমি খোলামেলা অনেক কথাই বলেছি। ওখানটায় সে বলেছে, তাকে যদি ছেড়েই দেয়া হয়, এখনি দিলে দলের জন্য তা ভালো হবে।”

অস্ট্রেলিয়া থেকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে ভারতের বাংলাদেশ সফর পর্যন্ত থাকতে রাজি হয়েছিলেন জার্গেনসেন। তবে দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে কথা বলে আগেই তাকে ছেড়ে দিচ্ছে বিসিবি।

বিসিবি সভাপতি বলেন, “তার সঙ্গে কথা বলার পর আমি বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেখানে আলাপ-আলোচনা করে আমরা ‘ইমিডিয়েটলি’ তাকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

লম্বা সময় ধরে আলোচনা করে জার্গেনসেনের পদত্যাগের কারণ জানার চেষ্টা করেছেন বিসিবি সভাপতি।

“তার সঙ্গে কথা বলে আমি বুঝলাম, ছোটখাটো অনেক ব্যাপার রয়েছে। তবে মূলত ছয় বছর ধরে সে বাড়ির বাইরে আছে। এখন অস্ট্রেলিয়ার আশেপাশে ভালো কোনো প্রস্তাব পেলে তা নিয়ে সে আগ্রহী।”

নাজমুল হাসান জানান, দলের পারফরম্যান্স জার্গেনসেনের দায়িত্ব ছাড়ার কারণ নয়।

“যদিও এই বছর দলের পারফরম্যান্স ভালো যাচ্ছে না তবে আমি তাকে বলেছি এই টিম ও এই কোচের অধীনেই আমরা এর আগে ভালো করেছি। নিউ জিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো খেলেছি, শ্রীলঙ্কায় ভালো খেলেছি। ওটা বড় কোনো ইস্যু নয়।”

বিসিবি পরিচালকের কোনো মন্তব্যের সঙ্গে জার্গেনেসেন পদত্যাগের কোনো সম্পর্কে রয়েছে বলে মনে করেন না নাজমুল হাসান।

“আমি কারণ জিজ্ঞেস করেছিলাম তার মধ্যে সে ঐ কারণটা (পরিচালকদের মন্তব্য) সে উত্থাপন করেনি।”

স্টুয়ার্ট ল দায়িত্ব ছাড়ার পর অন্তর্র্বতীকালীন কোচ হিসেবে ২০১২ সালের মেতে দায়িত্ব নেন জার্গেনসেন। পরে জুনে রিচার্ড পাইবাস দায়িত্ব নিলে বোলিং কোচের দায়িত্বে ফিরে যান তিনি। অক্টোবরে পাইবাসের বিদায়ের পর আবার অন্তবর্তীকালীন কোচের দায়িত্বে ফেরেন জার্গেনসেন।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে জার্গেনসেনকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান কোচ ঘোষণা করে বিসিবি। পরে জুলাইয়ে ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারার পর এশিয়া কাপে চারটি ম্যাচেই হারে বাংলাদেশ। এই ৪টি হারের একটি ছিল আবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম পর্বে হংকংয়ের বিপক্ষে হারটিও অনেকেই মেনে নিতে পারেনি।

এরপর কয়েকটি গণমাধ্যমে বলা হয়, নতুন কোচের খোঁজ করছে বাংলাদেশ।

শেয়ার