৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ ॥ ডেসটিনির চেয়ারম্যান-এমডিসহ ৫১জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

dudok destiny
সমাজের কথা ডেস্ক॥
মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনির বিরুদ্ধে ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে (সিএমএম) মামলা দুটির চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিট দাখিলের পরই দুদকের এ কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, চার্জশিটে আসামি করা হয়েছে ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ, ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনসহ ৫১ জনকে। ৫১ জনের মধ্যে দুই মামলার আসামি রয়েছেন ২২ জন। এ ছাড়া নতুনভাবে যুক্ত হয়েছেন আরো ২৯ জন।

মামলা দায়েরের ১৮ মাসের মাথায় ১৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র অনুমোদন করে দুদক। সেই থেকে সাড়ে ৩ মাস ধরে চলছিল চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি। একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম এ চার্জশিট প্রস্তুত করে।

দুদকের দায়ের করা দুই মামলার ২২ আসামির সঙ্গে আরো ২৯ জনকে যোগ করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

দুই মামলায় আগের ২২ আসামিও চার্জশিট থেকে বাদ যাননি। যারা চার্জশিটভুক্ত হয়েছেন তারা হলেন, ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন, সাবেক সেনাপ্রধান ও ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট লে. জেনারেল (অব.) এম হারুন-উর-রশিদ, পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, সাঈদ-উর-রহমান, গোফরানুল হক, মেজবাহ উদ্দিন স্বপন, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, ইরফান আহমেদ সানী, মিসেস ফারাহ দিবা, জমসেদ আরা চৌধুরী, সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী শেখ তৈয়বুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজাদ রহমান, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আকবর হোসেন সুমন, সাবেক সংসদ সদস্য মিসেস শিরিন আক্তার, মো. রফিকুল ইসলাম সরকার, মো. মজিবুর রহমান, মো. সুমন আলী খান, মো. সাইদুল ইসলাম খান (রুবেল) ও মো. আবুল কালাম আজাদ।

দুই মামলায় ২২ আসামি ছাড়াও চার্জশিটে যুক্ত হয়েছেন ২৯ জন। বেস্ট এভিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম হায়দারুউজ্জামান, প্রাক্তন হেড অব ফিন্যান্স কাজী ফজলুল করিম, উপদেষ্টা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, প্রাক্তন সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোল্লা আল আমীন, ইসলাম ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের প্রাক্তন ম্যানেজার সিকদার কবিরুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ মো. ফিরোজ আলম, প্রোপাইটার ওমর ফারুক, মো. জিয়াউল হক মোল্লা, মো. শফিউল ইসলাম, ডেসটিনি গ্রুপের কন্ট্রোলার সুনীল বরণ কর্মকার, ডেসটিনি নিহাজ জুট স্পিনার্সের চেয়ারম্যান এস সহিদুজ্জামান চয়ন, ডায়মন্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান তপন, ডেসটিনি এয়ার সিস্টেমস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ফরিদ আকতার, ডেসটিনি গ্রুপের অ্যাডভাইজার মো. শফিকুল হক, ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ মিসেস জেসমিন আক্তার (মিলন), ডিএমসিএসএলের প্রাক্তন সহ-সভাপতি মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খান, সম্পাদক এস এম আহসানুল কবির (বিপ্লব), সাবেক এ এইচ এম আতাউর রহমান রেজা, ডিএমসিএসএলের সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন, শাহ আলম, এ কে এম সফিউল্লাহ, খন্দকার বেনজীর আহমেদ, মো. আতিকুর রহমান, গোলাম কিবরিয়া (মিল্টন), ডেসটিনি-২০০০-এর এক্সিকিউটিভ ও পিএইডি জসিমউদ্দিন ভূঁইয়া, ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ জুবায়ের সোহেল, মোসাদ্দেক আলী খান, আবদুল মান্নান ও এস এম আহসানুল কবির।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উচ্চহারে মুনাফার লোভ দেখিয়ে এমএলএম (বহুস্তরের বিপণন) ব্যবসা পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের বিভিন্ন প্যাকেজের শেয়ার দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।

ওই সব অর্থ ৩২টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

সূত্র আরো জানায়, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির (ডিএমসিএসএল) মামলায় আসামিরা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে আট লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

এ সময় ঋণ প্রদান, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, নতুন প্রতিষ্ঠান খোলার নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯০১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। সে অর্থ থেকেই আসামিরা লভ্যাংশ, সম্মানী ও বেতন-ভাতার নামে ১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরিয়ে নেন।

দুদকের অপর মামলাটি ছিল ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেড (ডিটিপিএল) সংক্রান্ত। ২০০৬ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে গাছ বিক্রির নামে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের (ডিটিপিএল) জন্য ২ হাজার ৩৩৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এ অর্থ থেকে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২২৭ কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এ অর্থ বেতন-ভাতা, সম্মানী, লভ্যাংশ, বিশেষ ভাতা বা কমিশনের আকারে আত্মসাৎ বা নিজ ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করার প্রমাণ পেয়েছে দুদকের তদন্ত দল।

শেয়ার