দেবহাটায় পালাক্রমে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের চেষ্টায় কিশোরীর মৃত্যু ॥ অভিযুক্ত শাওনের বাবা মা শ্বশুর শাশুড়িসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ॥ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মা ও স্ত্রী গ্রেফতার

dhorshon
দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি॥ দেবহাটায় জোরপুর্বক ধর্ষণ ও অন্ত:সত্ত্বার পর বাগান বাড়িতে আটকে রেখে গর্ভপাত ঘটানোর নামে পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে এক কিশোরীর মৃত্যু ঘটনায় এক ধর্ষকের মা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজা পারভিন ও স্ত্রী রানী খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ৩ ধর্ষক এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায়
স্থানীয়রা জানান, কুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল হক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে শাওন দীর্ঘদিন যাবৎ তার শ্যালিকা আসমাউল হুসনাকে (১৭) ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে ভোগ করে আসছিল। বিষয়টি প্রতিবেশিরা আঁচ করতে পারলেও শাওনের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনি। এমনিতে তার পিতা ইউপি চেয়ারম্যান তারপর এবার মা হয়েছেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। পরিবারটি প্রভাবশালী হওয়ায় জেনেও এতদিন কেউ টু-শব্দ করেনি। প্রাণ রক্ষায় সম্ভ্রমহানীর ঘটনাটি চুপচাপ মেনেও নিয়েছিল শ্যালিকা কিন্তু সেকি জানতো এই প্রাণ একদিন কেড়ে নেবে দুলাভাই নামের নরপশুটি ? সচেতনমহল বলছেন আজকের এই যুগে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এতে ডাবল হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সুত্রমতে ৭ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হওয়ার পর তাকে কুলিয়ার স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে গর্ভপাত ঘটানোর কথা বলে নিয়ে যায় নরপশু শাওন। কিন্তু ডাক্তারের দায়িত্ব ঘাড়ে তুলে নেয় সে ও তার দুই বন্ধু। তাদের ধারণা জম্মেছিল পাশবিক নির্যাতনে গর্ভপাত ঘটবে। তাতে জানাজানি হবে না। হাসপাতালে নিলে জানাজানি হতে পারে ভেবেই সে ও তার দুই বন্ধুকে মিলে কয়েকদিন নির্যাতন চালানোর এক পর্যায়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে হতভাগা শ্যালিকা। সুত্রমতে বাগান বাড়ির কেউ বিষয়টি জানতে পেরে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে হাসপাতালে নেয় কিন্তু পথেই মৃত্যু ঘটে তার। সেখান থেকে দ্রুত লাশ এনে হতভাগার পরিবারকে ভয় দেখিয়ে কিংবা অর্থকড়ির লোভ দেখিয়ে ম্যানেজও করে ফেলে খুনি ধর্ষকচক্র। কিন্তু বাধ সাধে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ। পুলিশ লাশ উদ্ধার করতে গেলে বাধা দেয়া হয়। তাদের অসহযোগীতায় পুলিশের সন্দেহ আরও জোড়ালো হয়। এক পর্যায়ে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠায় দেবহাটা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এসআই ইউনুস আলী বাদি হয়ে কুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল হক, তার স্ত্রী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজা পারভিন, ছেলে শাওন, শাওনের স্ত্রী রানী খাতুন, শাওনের শ্বশুর আব্দুল মজিদ সরদার, শ্বাশুড়ী নাজমা খাতুনসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি ৃএকটি মামলা করেছেন। মামলা নং-০২। ময়না তদন্ত রিপোর্টে অন্ত;সত্ত্বার বিষয়টি প্রমাণিত হলে মামলাটি ডাবল হত্যা মামলা হবে এমনটি জানিয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজা পারভিন ও রানী খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এদিকে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন পুলিশের তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পৈশাচিক এই হত্যাকান্ড নিয়ে পুলিশ কোন রকমের প্রভাবিত হলে বা ছালচাতুরির আশ্রয় নিতে চাইলে তা রুখে দেয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে সংগঠনগুলো।

শেয়ার