এড়েন্দা বাজারে র‌্যাবের অভিযান ॥ জিয়া হত্যা মামলার আসামি সাজ্জাদ অস্ত্রসহ আটক

Ra
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর জিয়াদুল ইসলাম জিয়া হত্যা মামলার আসামি সাজ্জাদকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্রসহ একটি গাঁজার কল্কি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় একই উপজেলার এড়েন্দা বাজার থেকে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের উপঅধিনায়ক মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে তাকে আটক করা হয়। আটক সাজ্জাদ হোসেন দেয়াড়া গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে।
সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে দেয়াড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর জিয়াদুল ইসলাম জিয়া দত্তপাড়া বাজারে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে একদল সন্ত্রাসী জিয়া মেম্বরকে কুপিয়ে ও বোমা হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। আহত জিয়া মেম্বরকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরদিন এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইমদাদুল ইসলাম ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অপরিচিত ৭/৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে গত ১৭ জানুয়ারি ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় আদালতে। আর এ মামলায় দু’জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অভিযুক্তরা হলো, দেয়াড়া গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে সাজ্জাদ হোসেন, শামিম হোসেন, ও শুকুর আলী, আব্দুস সাত্তারের ছেলে হাসেম আলী ও আজিজুল ইসলাম, আজিজুর রহমানের ছেলে নাদিম রহমান, পতেঙ্গালী গ্রামের অহেদ আলীর ছেলে মিজান ও বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে আমির হোসেন। এ ছাড়া অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, তুহিন বিশ্বাস ও ইয়ামিন কাজীকে।
জিয়া মেম্বর হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা এলাকা তুহিনকে চার্জশিটে অব্যাহতি দেয়ায় বাদী মামলাটি পুন:তদন্তের জন্য না রাজি আবেদন করেন আদালতে। বিচারক মামলার শুনানী শেষে পুন:তদন্তের জন্য সিআই পুলিশকে আদেশ দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি সিআইডতে তদন্তনাধীন আছে। কিন্তু এ মামলার অন্যতম আসামি সাজ্জাদ পলাতক ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব তাকে আটক করে। তবে আটকের সময় সাজ্জাদের কাছ থেকে একটি ওয়ান স্যুটারগান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে তুহিনের বাড়ি থেকে আরেকটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি হাসুয়া ও গাঁজা খাওয়ার কল্কি উদ্ধার করা হয়।
আটক সাজ্জাদ হোসেন জানায়, ২০১২ সালে জিয়া মেম্বরের নির্দেশে তার মোটরসাইকেল চুরি করে। এ ছাড়াও এলাকার তুহিনের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সে কারণে তুহিন জিয়া মেম্বরকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা ও অস্ত্র সরবরাহ করে।

শেয়ার