দেবহাটায় দুলাভাইসহ ৩ নরপশুর গা ঢাকা ॥ দেবহাটায় পাশবিক নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর মৃত্যু ॥ ধর্ষকের মা ভাইস চেয়ারম্যান আটক

Dhorshon
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ দুলাভাই ও তার দুই বন্ধুর পালাক্রমে কয়েকদিনের পাশবিক নির্যাতনে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। প্রচন্ড অসুস্থ্য হয়ে পড়লে অবস্থা বেগতিক বুঝে লম্পট দুলাই ভাই বৃহস্পতিবার বিকেলে সাতীরা সদর হাসপাতালে আনে। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি না নিয়েই মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে দাফনের প্রক্রিয়া শুরু হয় কিন্তু খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌছে নিহত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়না তদন্তে মর্গে পাঠায়। মধ্যযুগীয় এই বর্বরতার ঘটনাটি ঘটেছে জেলার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় ধর্ষক দেলোয়ারের মা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীনকে পুলিশ আটক করেছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। ধর্ষকদের গ্রেফতারে তাকে থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল বলে সুত্র জানা গেছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। ধর্ষকদের গ্রেফতারসহ দৃস্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে নানা কর্মসূচী গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা পুলিশ ও হাসপাতাল সুত্রের দাবি, নিহত কিশোরী ৬ মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিল। পুরো ঘটনার নিস্পত্তি টানতে ৩ নরপশু পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাই-ই হয়েছে। কিন্তু বিধিবাম বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ায় তারা আত্মগোপন করেছে। সুত্রমতে, সদর উপজেলার রইচপুর গ্রামের আব্দুল মজিদের ষোড়সী কন্যা দেবহাটার কুলিয়া গ্রামের আসাদুল চেয়ারম্যানের ছেলে দুলাভাই দেলোয়ার হোসেন শাওনের বাড়িতে থাকতো। সেখানে শাওনের বন্ধু কুলিয়া গ্রামের মাওলা বক্স গাজীর ছেলে তুহিন ও আবু তালেবের ছেলে আরিফ প্রতিনিয়তই কুপ্রস্তাব দিত। বিষয়টি দুলাভাই শাওনকে জানিয়েও কোন ফল পায়নি। এক পর্যায়ে শাওন ও তার দুই বন্ধু মিলে ব্যবহার করতো। অভিযোগ রয়েছে দিনের পর দিন এভাবে ব্যবহার করায় ষোড়ষী কন্যা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি তাদের জানানোর পর গর্ভপাত ঘটানোর প্রতিশ্র“তি দিয়ে শাওনের বাগানবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন আটকে রেখে বেপরোয়া পাশবিক নির্যাতন করা হয়। এঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়ে ষোড়ষী। গত বুধবার বিকেল থেকে চেয়ারম্যান আসাদুলের আপন ভগ্নিপতি স্থানীয় সবুর ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। এতে ষোড়সী কন্যা পর্যায়ক্রমে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। অবশেষে রুগীর অবস্থা বেগতিক দেখে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাতীরা সদর হাসপাতালে আনার পথে মৃত্যু হয়। সাতীরা সদর হাসপাতারের চিকিৎসক ভর্তি না করেই ফেরত পাঠান। ময়না তদন্ত ছাড়াই হাসপাতাল থেকে অতি গোপনে লাশ নিয়ে ধর্ষকরা লাশ পাঠিয়ে দেন সদর উপজেলার রইচপুর গ্রামে শ্বশুর আব্দুল মজিদের বাড়িতে। কাউকে কিছুই না জানিয়ে শুক্রবার দুপুরে দাফনের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এমন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতীরা সদর সার্কেলের এএসপি মনিরুজ্জামানসহ সঙ্গীয় ফোর্স সেখানে পৌছে ময়না তদন্তের ল্েয লাশ সাতীরায় নিয়ে আসে। সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। সাতীরা সদর থানার ওসি তদন্ত শেখ নাসির উদ্দীন কর্তব্যরত ডাক্তারদের বরাত দিয়ে জানান, নিহত ষোড়ষী কন্যার পেটে ৬ মাসের বাচ্চা ছিল। একই সাথে তার উপর শারিরিক নির্যাতন হয়েছে বলে জানান। এবিষয়ে সদর হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্র স্বীকার করে বলেছেন শনিবার রিপোর্ট দেয়া হবে। এদিকে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে রাত ৮ টার দিকে ধর্ষক দুলাভাই দেলোয়ার হোসেনের মা দেবহাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীনকে আটক করেছে সদর থানার পুলিশ।

শেয়ার