গুম-খুনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখান: সুরঞ্জিত

surbfile
সমাজের কথা ডেস্ক॥ গুম-খুন প্রতিরোধে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক আলোচনা সভায় একথা বলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য।
সুরঞ্জিত বলেন, “খুন-গুম গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্য শুভ নয়। দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে এ বিষয়ে সরকারের কঠোর হতে হবে। প্রশাসনের নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
“আমি সরকারকে আহ্বান জানাব, এদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। সন্ত্রাসী যত বড়ই হোক, তাকে ধরতে প্রশাসনকে দৃঢ় হতে হবে।”
গত রোববার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও তার পাঁচ সহযোগী এবং আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার চালক অপহৃত হন।
তিন দিন পর বুধবার দুপুরে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকা সংলগ্ন শীতল্যা নদীতে হাত-পা বাঁধা ছয়টি লাশ ভেসে ওঠে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে নদীর ওই এলাকা থেকেই আরেকটি লাশ উদ্ধার করা হয়।
আলোচনায় সাম্প্রতিক গুম-খুনের ঘটনার পেছনে বিরোধী দলের উসকানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে সুরঞ্জিত বলেন, “এ দেশে গুম-খুনের রাজনীতির বিষবৃ রোপন করেছেন আপনি ও আপনার দল। সেই বিষবৃ এখন বিষফল দিচ্ছে, গণতন্ত্রকে বিঘ্নিত করছে।
“বরং আমি তো বলব, এই যে বিষফল, এতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও উসকানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।”
বিএনপি চেয়ারপারসনকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা বলেন, “তিনি আসলে ভুলে গেছেন, গুম-খুনের রাজনীতির জনক জিয়াউর রহমান এবং তার দল বিএনপি।
“১৫ই আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং এরপরে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, ইনডেমনিটি দিয়ে তার দায়মুক্তি নিয়েছেন আপনারা। আপনার মুখে গুম-খুনের সমালোচনা শোভা পায় না।”
সুরঞ্জিত বলেন, “কোনোভাবেই গণতন্ত্রকে কলুষিত হতে দেয়া যাবে না। যে কোনো মূল্যে আমাদের গণতন্ত্র রা করতে হবে। বিএনপি যে বিষবৃ রোপন করেছিল তা আমাদের নির্মূল করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংসদ হাজি মোহাম্মদ সেলিম, ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি ফয়েজউদ্দিন মিয়া, বঙ্গবন্ধু একাডেমির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মিজি ও সহ-সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাস।

শেয়ার