এমএইচ৩৭০’র খোঁজে বঙ্গোপসাগরে দুই নৌজাহাজ

bangladesh
সমাজের কথা ডেস্ক॥
মালয়েশিয়ার নিখোঁজ উড়োজাহাজের সন্ধানে বঙ্গোপসাগরে আবারও দু’টি নৌজাহাজ পাঠিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ উপকূলে এমএইচ৩৭০’র ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যেতে পারে বলে অস্ট্রেলীয় একটি কোম্পানির দাবির প্রেেিত এ জাহাজ দু’টি পাঠানো হয়েছে।

নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার জানিয়েছেন, উপকূলের ১৯০ কিলোমিটার দূরে একটি রণতরী ও আরেকটি পর্যবেক জাহাজ পাঠিয়ে সম্ভাব্য স্পটে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক রাশেদ আলী বলেন, নৌজাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ট্রেলীয় কোম্পানির দাবির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

গত ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নৌবাহিনীর জাহাজ ওমর ফারুক নিখোঁজ এমএইচ৩৭০’র সন্ধানে বঙ্গোপসাগরে অভিযান শুরু করে। ১৫ মার্চ উড়োজাহাজের খোঁজে অনুসন্ধানে যোগ দেয় জাহাজ বঙ্গবন্ধু। এরপর ১৮ মার্চ সমুদ্র জয় ওমর এর স্থলে অনুসন্ধানে যোগ দেয় যুদ্ধজাহাজ সমুদ্র জয়।

দেশের সমুদ্র এলাকাকে আটটি ব্লকে ভাগ করে উড়োজাহাজের সম্ভাব্য গতিপথ অনুযায়ী বিশাল জলরাশিতে অভিযান চালানো হয়।

সে দফায় বাংলাদেশের জলসীমায় কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়ে দেয় নৌবাহিনী।

সম্প্রতি অ্যাডিলেডভিত্তিক সংস্থা জিওরেজোন্যান্স’র প থেকে বলা হয়, এয়ারবোর্ন মাল্টিস্পেকচারাল যন্ত্রে ধরা পড়া চিত্রে দেখা গেছে, বাংলাদেশ উপকূল থেকে ১৯০ মাইল দেিণ বঙ্গোপসাগরে ধাতব ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটাকেই উড়োজাহাজের সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও জিওরেজোন্যান্স’র এমন বক্তব্যকে উড়িয়ে দিচ্ছেন উদ্ধারে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক জোটের প্রধান সমন্বয়ক অগাস হোস্টন। তার মতে, বর্তমানে যেসব স্থানে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে, সেই দণি ভারত মহাসাগরেরই পার্থ ও মালয়েশিয়া উপকূলই সঠিক এলাকা।

হোস্টনের বক্তব্যে সমর্থন দিয়েছেন সিএনএন’র অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ মাইলস ও’ব্রেইনও।

এদিকে, জিওরেজোন্যান্সের অনুমানের সত্যতা যাচাইয়ের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়াও।

শুক্রবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী হিশামউদ্দিন হুসেইন বলেন, মূল অনুসন্ধান এলাকা দণি ভারত মহাসাগর থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধানকারী জাহাজ পাঠিয়েই কেবল এই অনুমানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

শুক্রবার হুসেইন বলেন, কিন্তু আমি এটাও জোর দিয়ে বলতে চাই যে, আমরা এর মাধ্যমে মূল অনুসন্ধান থেকে বিভ্রান্ত হচ্ছি কিনা। যদি এই অনুসন্ধান বিফল হয়, তাহলে সময় নষ্ট হওয়ার এ দায় কে নেবে?

তবে বঙ্গোপসাগরে কী ধরনের অনুসন্ধানকারী দল পাঠানো হবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি হুসেইন।

শেয়ার