ইন্টারটিটাল ল্যান্স ডিজিট রোগে আক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয় জয়ী ফারুক বেঁচে আছে লাইফ সাপোর্টে ॥ সরকার ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুতি সর্বহারা পিতার

Faruk Hossain
নিজস্ব প্রতিবেদক, (ঝিনাইদহ) কালীগঞ্জ॥ কোটি টাকার অভাবে বিদেশ যাওয়া হলো না বিশ্ববিদ্যালয় জয় করে আসা মেধাবী ছাত্র ফারুকের। ইতোমধ্যে সহায় সর্বস্ব বিক্রি করে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে তার পরিবার। এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ফারুক। ইন্টারটিটাল ল্যান্স ডিজিট (আইএলডি) রোগে আক্রান্ত ফারুককে প্রতিদিনি ৩ সিলিন্ডার অক্সিসেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন এ প্রশ্ন তার পরিবারের ? সরকার উদ্যোগ নিলে হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে ফারুক। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলেও হতে পারে কোটি টাকার যোগাড়। যত দ্রুত সম্ভব তাকে পাঠাতে হবে ভারতের চেন্নাই অথবা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে।
২০১২ সালের জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত চিকিৎসা বাবদ তার পেছনে পরিবার প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। বর্তমানে তার সম্পূর্ণ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন আরো প্রায় এক কোটি টাকা। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষে এ টাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। তাই ফারুককে প্রতিদিন তিনটি বড় কৃত্রিম সিলিন্ডারের অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। এতে প্রতিদিন তার পিছনে পরিবারের খরচ হচ্ছে তিন হাজার টাকা। অক্সিজেন ছাড়া তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ঘরের বারান্দায় দুঃসহ জীবন কাটাচ্ছে ফারুক। তার স্বপ্ন আরোগ্য লাভ করে অন্যদের মতো স্বাভাবিক জীবন-যাপন করা। এমবিএ পাশ করা এই মেধাবী ছাত্রের চিকিৎসা সহায়তা করার জন্য কোন হৃদয়বান, বৃত্তবান ব্যক্তি আছেন, যাদের সাহায্যে ফারুক স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে ফারুক ২০০২ সালে সরকারি বিএল কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স এবং ২০১১ সালে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। শিক্ষা জীবন শেষে বাড়ি ফেরার কিছুদিন পর ২০১২ সালে হঠাৎ করেই তার শ্বাসকষ্ট ও কাশি শুরু হয়। ঢাকার জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পরিচালক ডা. রাশেদুল ইসলাম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান ফারুক দুরারোগ্য ইন্টারটিটাল ল্যান্স ডিজিট (আইএলডি) রোগে আক্রান্ত। সেই থেকে পরিবার প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এই রোগ ফুসফুস অকার্যকর করে দেয়। রোগটি ধরা পড়ার পর দুই বছর ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালের ফুসফুস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সুরেশ চন্দ্রের কাছে চিকিৎসা নেন ফারুক। শেষপর্যন্ত ডাক্তার সুরেশ চন্দ্র ফুসফুস প্রতিস্থাপনের জন্য ভারতের চেন্নাই অথবা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষে এ টাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। সন্তানের এই ধুকে ধুকে মৃত্যু যন্ত্রনা পিতাসহ স্বজনা সহ্য করতে পারছেন না। তাকে বাঁচাতে অসহায় বাবা সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন। সাহায্য পাঠাতে চাইলে মো. কামাল হোসেন, সঞ্চয়ী হিসাব নং-১২০৮৮, ইসলামী ব্যাংক, কালীগঞ্জ শাখা, ঝিনাইদহ। অথবা বিকাশ নং-০১৯৬২৪১৪২২৬ পাঠাতে পারেন।

শেয়ার