অপহরণ ঠেকাতে পুলিশের ‘স্কোয়াড’

apohoron
সমাজের কথা ডেস্ক॥ অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়া প্রেক্ষাপটে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ একটি দল গঠন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। শুধুমাত্র রাজধানীতে নয় দেশের যে কোনো স্থানে সহযোগিতা চাইলে কাজ করবে ডিএমপির অ্যান্টি কিডন্যাপিং স্কোয়াড। ইতিমধ্যে এই টিম কাজও শুরু করেছে।
৪০ সদস্যের এই স্কোয়াডের প্রধান হিসেবে রয়েছেন- ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয় টিমের প্রধান অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার হোসেন।
টিমে রয়েছেন দুইজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি)। তারা হলেন- এসএম নাজমুল হক ও জাহাঙ্গীর আলম।
সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ শনিবার এই স্কোয়াড গঠন করে।
শনিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এই টিম গঠনের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
তিনি বলেন, ইদানীং ব্যাপক হারে অপহরণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে অপহরণ এবং গুম প্রতিরোধে এ স্কোয়াড ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে। অপহরণের যে কোনো তথ্য জানাতে চারটি হট লাইন খোলা থাকবে। যে কেউ এই নম্বর গুলোতে পরিচয় গোপন রেখে অপহরণের যে কোনো তথ্য জানাতে পারবে।
যুগ্ম কমিশনার জানান, কয়েকদিনে নারায়ণগঞ্জে তিনটি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ডিএমপিতে এ ধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে ডিএমপির।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণের বিষয়ে তিনি বলেন ‘আমরা বহুবার ভুয়া পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নামে ভুয়া সদস্যদের গ্রেফতার করেছি। এদের বিরুদ্ধে এখনো অভিযান চলমান। গত দুই বছরে ৪শ’ ৬২ জন ভুয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি।
‘অ্যান্টি কিডন্যাপিং স্কোয়াডের’ বিষয়ে তিনি আরো জানান, ডিএমপির বাইরে থেকেও এই টিমের কাছে ‘হট লাইনের’ নম্বরে ফোন করে অপহরণের বিষয়ে জানাতে পারবে।
অ্যান্টি কিডন্যাপিং স্কোয়াডের হট নম্বর গুলো হচ্ছে- ০১৭১৩৩৯৮৩২৭, ০১৭১৩৩৯৮৬১৯, ০১৭১৩৩৭৩২১৪ এবং ০১৭১৩৩৭৩২১৬।
টিমের প্রধান এডিসি ছানোয়ার হোসেন জানান, আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। এটা তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ না। কারণ আমরা প্রতিনিয়ত চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং গুম নিয়ে কাজ করছি।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এডিসি জানান, ডিএমপিতে পূর্বে যেসব অপহরণ হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কোন কোন অপহরণকারী চক্র জড়িত তাদের সনাক্ত করতে হবে। থানা গুলোতে যেসব মামলা হয়েছে সেই মামলাগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।
ইতোপূর্বে এসব চক্রের সদস্য হিসেবে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, বর্তমানে তারা কে কোথায় আছে তাদের খুঁজে বের করে নজরদারী বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র রাজধানী নয় দেশের যে কোনো স্থানে অপহরণের ঘটনায় যদি এই টিমের সহায়তা চাওয়া হয় তবে আমরা সেখানে গিয়ে কাজ করবো। আর আমরা টিম গঠনের পর থেকেই আমাদের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
অপহরণের কয়েকটি ঘটনা এর আগে ঘটলেও নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে তুলে নিয়ে হত্যার পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপহরণ ঠেকাতে রাজধানীরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। অপহরণ ঠেকাতে মাইক্রোবাসে রঙিন কাচও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শেয়ার