রূপদিয়ায় শিবির অফিসে পুলিশের হানা ॥ কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা জেলা আমিরসহ ১০ নেতাকর্মী আটক ॥ দুই পুলিশ আহত॥ বোমা ও রামদা উদ্ধার

rupdia copy
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠককালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও যশোর জেলা নেতাসহ ১০ ক্যাডারকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হন নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই হাবিবুল্লাহ ও কনস্টেবল সরোয়ার হোসেন। এ সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান বোমা ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। মঙ্গলবার গভীররাতে সদর উপজেলার রুপদিয়া বাজারস্থ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কার্যালয়ে হানা দিলে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আজীজুর রহমান, জেলা শাখার আমীর অধ্যাপক আব্দুর রশীদ, শহরের বারন্দী মোল্লাপাড়া কবরস্থান এলাকার মৃত ইদ্রিস মোল্লার ছেলে মনিরুজ্জামান লাভলু, সদর উপজেলার জঙ্গলবাঁধাল গ্রামের শাহ আলম খান ও তার ছেলে নুরুল হুদা, রুপদিয়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান, আব্দুল মান্নানের ছেলে মুরাদ, আলতাফ হোসেনের ছেলে তুহিন, মাগুরার শালিখা উপজেলার শ্রীহট্টি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বিশ্বাসের ছেলে আবুল কালাম আজাদ এবং শার্শা উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের শাহজাহানের ছেলে আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই হাবিবুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে রুপদিয়া বাজারস্থ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী সংঘের অফিসের নাশকতার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র অবস্থায় একটি গোপন বৈঠক হচ্ছে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্সসহ শিবিরের ওই অফিসে অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে পরপর দু’টি বোমার নিক্ষেপ করে জামায়াত শিবির। এ ছাড়াও তারা হাতে থাকা বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র নিয়েও পুলিশকে মারপিট করে সরকারী অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের হামলায় দারোগাসহ দু’পুলিশ সদস্য আহত হন। এরপর পুলিশ জানমাল রক্ষায় সর্টগান দিয়ে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এরপর সেখান থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। বাকি ১০/১২ জন পালিয়ে চলে যায়। পরে আটককৃতদের স্বীকারোক্তি মতে শিবিরের অফিস থেকে ৩টি রাম-দা, ১টি তলোয়ার, ১টি গাছি-দা, ৩টি ছোরা, ৫টি বোমা ও ১০ টি বোমা তৈরীর কাজে ব্যবহৃত খালি জর্দ্দর কৌটা উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার এসআই হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে সরকারী কাজে বাধা দান এবং অস্ত্র আইনে কোতোয়ালি থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় আটক ১০ জন ছাড়াও পলাতক অপর আসামিরা হলেন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারী মাস্টার নূরুন্নবী, সদর উপজেলা আমীর আব্দুল মালেক খান, সেক্রেটারী হাশেম রেজা, শহর আমীর গোলাম রসুল, সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও নেতা ইদ্রিস আলী, মুনসেফপুর গ্রামের আশরাফ আলী ও রুপদিয়ার দেলোয়ার হোসেন।

শেয়ার