চৌগাছার কাবিলপুর গ্রামে মাদক হোলসেলার মেম্বর গ্রুপের তাণ্ডব॥ মাদক সিন্ডিকেটের হাতে আহত যশোরের ৪ ফেনসিডিল বিক্রেতা হাসপাতালে ॥ পালিয়ে বেঁচেছে অনেকে

chowgasa copy
ইয়াকুব আলী/ আরমান সজল ॥ চৌগাছার কাবিলপুর গ্রামে ফেনসিডিল কেনাবেচা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে মাদক হোলসেলার মেম্বর শহিদুল গ্রুপের হাতে গুরুতর জখম হয়েছে যশোরের খোরসহ ৪ মাদক বিক্রেতা। মাদক সিন্ডিকেটের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ীভাকে কুপিয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। আহত যশোর শহরের ষষ্টিতলাপাড়ার মৃত মোফাজ্জেল মিস্ত্রির ছেলে আরিফ হোসেন (২৫), সদরের দৌলতদিহি গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী মিলন (৪০) রাজাপুর গ্রামের জয়নালের ছেলে জব্বার ও চুড়ামনকাঠি গ্রামের আমির হোসেন (৪২) কে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে মিলনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকালই তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে ফেলে আসা দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে।
মঙ্গলবার রাতে যশোর সদরের হৈবতপুর গ্রামের চিহ্নিত ফেনসিডিল ব্যবসায়ী ও সুদখোর লিটন কতিপয় মাদক বিক্রেতাকে নিয়ে মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে চৌগাছার কাবিলপুর গ্রামে যায়। সোহরাব হোসেনের বাড়িতে ওঠা-বসার ব্যবস্থা হয়। সেখানে মাদক হোলসেলার মেম্বর শহিদুলের সাথে লিটনের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে মেম্বর গ্রুপের ক্যাডার চিহ্নিত ফেনসিডিল সাপ্লাইয়ার শফিকুলসহ একদল মাদক বিক্রেতা উত্তেজিত হয়ে তাকে মারধর করে। একপর্যায় লিটন গং অবস্থা বেগতিক বুছে রাতেই যশোরে ফিরে আসে। কিন্তু’ রাগ ছিল মাথায়। সামাল দিতে না পেরে গতকাল সকালে ৫টি মোটরসাইকেলে যশোর থেকে লিটন মাদক সিন্ডিকেটের ৮/১০ জন কাবিলপুর গ্রামে গিয়ে মাদক ব্যবসায়ী মিঠুর বাড়িতে ঢুকে টেলিভিশন ও আসবাবপত্র ভাংচুর করতে থাকে। এ সংবাদে মেম্বর শহিদুল সিন্ডিকেটের সশস্ত্র একদল ক্যাডার যশোর থেকে মাস্তানী করতে যাওয়া খোরসহ বিক্রেতাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ীভাবে কোপাতে থাকে। এ সময় ৩টি মোটরসাইকেলে কয়েকজন পালিয়ে আসতে পারলেও গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যশোরের ৪ জন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরিফ হোসেন (২৫), মিলন (৪০) জব্বার ও আমির হোসেনকে (৪২) কে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল হাসপাতালে পাঠায়। এরমধ্যে মিলনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। অন্যদের মধ্যে একজনের হাত কেটে ফেলতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে ফেনসিডিল কেনাবেচা দ্বন্দ্বের বিষয়টিকে ভিন্নখাতে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বহুল আলোজিত মাদক হোলসেলার মেম্বর শহিদুল। ঘটনার পর তার লোকজন প্রচার দেয় মঙ্গলবার রাতে কাবিলপুর গ্রামে মদ গিলে মাতলামি করছিল যশোরের কতিপয় খোর। তাদের নিরস্ত্র করতে শফিকুলসহ এলাকার মানুষ লিটনকে মারধর করে। এলাকাবাসির তাড়া খেয়ে তারা ওই রাতেই লিটন গং’রা যশোরে ফিরে আসে। গতকাল তারা ৫ মোটরসাইকেলে কাবিলপুর গ্রামে গিয়ে মিঠুর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয় জনতা তাদের মারপিট করে। পালানোর সময় যশোরের খোরেরা দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করে। বিভিন্ন সুত্রের দাবি সবকিছুই ঘটেছে মাদক কেনাবেচা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে। পুরো ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার অপচেষ্টা চলছে। চৌগাছা থানার এসআই কুদ্দুস জানান ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়েছে। গোলাগুলির কোন ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে।

শেয়ার