ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ঝুঁকি এড়াবেন যেভাবে

how to
সমাজের কথা ডেস্ক॥ হার্টব্লিডের ঝুঁকি এখনও কাটেনি, এরই মধ্যে প্রযুক্তিজগতের নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বহুল ব্যবহৃত ওয়েব ব্রাউজার ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের নতুন একটি বাগ। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৭ থেকে ১১ পর্যন্ত– সবগুলো ভার্সনেই আছে বাগটির উপস্থিতি। আরও দুশ্চিন্তার ব্যাপার হল, এখন পর্যন্ত নতুন বাগটির হুমকি মোকাবেলা করতে কোনো সফটওয়্যার প্যাচ ইস্যু করতে পারেনি মাইক্রোসফট।

সফটওয়্যার জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের এই ঝুঁকি নিয়ে ব্যবহারকারীদের সাবধান করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটও। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার থেকে ভুল করে যেন কোনো ‘ম্যালিশিয়াস লিংকে’ ক্লিক করলেই ব্যবহারকারীর কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে হ্যাকারদের হাতে, বেহাত হয়ে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা।

হার্টব্লিডের তুলনায় ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের বাগটি কোনো অংশেই কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়। “এটা (বাগটি) অবশ্যই এমন কিছু, যা নিয়ে ব্যবহারকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত”– বাগটি নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন সফটওয়্যার নির্মাতা সাইবার সিস্টেমসের (Siber Systems) ভাইস প্রেসিডেন্ট অফ মার্কেটিং বিল ক্যারি।

এমন অবস্থায় ব্রাউজিংয়ের ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহার না করাই হবে শ্রেয়। তবে ব্রাউজারটি যদি ব্যবহার করতেই হয় তবে নিরাপদ থাকার কিছু ‘টিপস’ দিয়েছেন ক্যারি।

সফটওয়্যার আপডেট করুন: শুধু ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার বাগের জন্য নয়, যে কোনো সাইবার হুমকি এড়াতে কম্পিউটারের সবগুলো সফটওয়্যার সময়মতো আপডেট করা খুবই জরুরি। নতুন বাগটির কারণে অন্যান্য ব্যবহারকারীদের তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে আছেন উইন্ডোজ এক্সপি অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহারকারীরা। মাইক্রোসফট এক্সপির সফটওয়্যার আপডেট ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছে এ মাসেই। ফলে নতুন বাগটির হুমকি মোকাবেলায় মাইক্রোসফট কোনো সফটওয়্যার প্যাচ ইস্যু করলেও তা কার্যকর হবে না এক্সপি অপারেটিং সিস্টেমে। তাই যত দ্রুত সম্ভব এক যুগের পুরনো অপারেটিং সিস্টেমটি আপগ্রেড করে নেওয়াই হবে শ্রেয়।

ব্রাউজার বন্ধ রাখুন: ইন্টারনেটে সোশাল মিডিয়া, ই-মেইল অ্যাকাউন্ট বা অন্য যে সাইটে কাজ শেষ হয়ে গেলে লগ আউট করুন। তারপর ব্রাউজারটি বন্ধ করে দিন। লগআউট না করেই ব্রাউজার বন্ধ করলে অথবা কাজ ছাড়াই ব্রাউজার চালু করে রাখলে, স্পর্শকাতর ডেটা হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই কাজ শেষ হওয়া মাত্র লগআউট করে ব্রাউজার বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
ইমেইল নিয়ন্ত্রণ করুণ: বাড়তি একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন। নিজের মূল ই-মেইল আইডি সেইসব ব্যক্তিদের দিন, যারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য কাজের জন্য ব্যবহার করুন বাড়তি ই-মেইল অ্যাকাউন্টটি। এতে আপনার মূল অ্যাকাউন্টের ইনবক্স যেমন খালি থাকবে তেমনি অনেকাংশে এড়ানো যাবে বাড়তি স্প্যামের ঝামেলা।

কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন: সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা সাইবার অপরাধীদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে আসছেন বহুদিন ধরেই। পুরনো পাসওয়ার্ড পাল্টে নতুন আরও কঠিন কোনো পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তা বাড়বে অনেকখানি। নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির সময় ‘কিস্ট্রোক মেথড’ ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন ক্যারি।

ই-মেইল ফটো বন্ধ রাখুন: ই-মেইলের ফটো অপশনটি বন্ধ করে রাখুন। ফটো ছাড়াই ই-মেইলটি টেক্সট হিসেবে পড়ুন। ই-মেইলটি যদি কোনো হ্যাকারের পাঠানো হয়, তবে ফটো ছাড়া টেক্সট হিসেবে মেইল পড়লে, ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করতে পারবে না ওই হ্যাকার।

শেয়ার