বিমানের সন্ধানে ফের সাগরে নৌবাহিনী

Malaysian Plane
সমাজের কথা ডেস্ক॥ অস্ট্রেলীয় অনুসন্ধান দল দাবি তোলার পর মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানটির সন্ধানে ফের বঙ্গোপসাগরে অভিযান শুরু করেছে নৌবাহিনী।
সংবাদপত্রে খবর প্রকাশের পর মঙ্গলবার রাত থেকে দুটি জাহাজ বঙ্গোপসাগর এলাকায় কাজ শুরু করেছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান নৌবাহিনীর পরিচালক (গোয়েন্দা) কমোডর রাশিদ আলী।
বিএনএস বঙ্গবন্ধু এবং বিএনএস অনুসন্ধান জাহাজ দুটি বিমানটির সন্ধানে সাগরে গেছে।
মালয়েশিয়ার বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার দেড় মাস পর অস্ট্রেলিয়ার অনুসন্ধান দল ‘জিওরেজোন্যান্স’ দুদিন আগে জানায়, বঙ্গোপসাগরতলে একটি বোয়িং বিমানের গঠন উপাদান চিহ্নিত করেছেন তারা, যা এমএইচ৩৭০ এর হতে পারে।
তার ভিত্তিতে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নৌবাহিনী এই উদ্যোগ নিল। তবে বিমান অনুসন্ধান কার্যক্রমের সমন্বয় কর্তৃপক্ষ অস্ট্রেলীয় কোম্পানিটির দাবি উড়িয়ে দিয়েছে।
২৩৯ আরোহী নিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে গত ৮ মার্চ প্রথম প্রহরে মাঝ আকাশে আকস্মিকভাবে রাডার থেকে উধাও হয়ে যায় মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটি।
এর ছয় দিন পর অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালায় নৌবাহিনী। সাগরের ৮৭ হাজার ৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে নৌবাহিনীর দুটি ফ্রিগেট এবং দুটি মেরিটাইম উড়োজাহাজ দিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়।
১২দিন পর নৌবাহিনী জানায়, আঁতিপাতি করে খুঁজেও মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ উড়োজাহাজটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে আকাশে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এটি দিক বদলে ভারত মহাসাগরের দিকে সরে যায় বলে ইঙ্গিত পাওয়ার পর বাংলাদেশকে অনুসন্ধান চালাতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
জিওরেজোন্যান্স সাধারণত পরমাণু অস্ত্র কিংবা সাবমেরিন খুঁজে বেড়ায়। ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই বিমানটির ধ্বংসাবশেষের খোঁজে ২ লাখ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে অনুসন্ধান চালাতে শুরু করে তারা।
কোম্পানিটির কর্মকর্তা ডেভিড পোপ বলেন, “২০ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে আমাদের বিশেষজ্ঞরা। তারা তো প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেনি, তারা কী পেয়েছে বঙ্গোপসাগরে।
“সেখানে একটি বাণিজ্যিক বিমানের ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন পেয়ে তারা খুবই উজ্জীবিত। আমাদের ধারণা, এটা মালয়েশিয়ার বিমানেরই কিছু উপাদান।”
‘জিওরেজোন্যান্স’ এর কর্মকর্তা পাভেল কার্সা বলেন, তারা একটি বোয়িং-৭৭৭ বিমানের গঠন উপাদানের কিছু পেয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম, কপার, স্টিল ইত্যাদি।

শেয়ার