বিজ্ঞানের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

PM
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিজ্ঞান সম্ভাবনার যে নতুন দ্বার খুলে দিচ্ছে, তা কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিজ্ঞান নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে। এটা কাজে লাগাতে হবে।
“আমাদের দেশে মেধার অভাব নেই। আমাদের দেশের মানুষ অনেক মেধাবী। প্রযুক্তি ব্যবহার করতে আমাদের দেশের মানুষ আগ্রহী।”
রূপপুরের পর বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক বাধা-বিঘ্ন, অনেক বড় বড় দেশের দ্বন্দ্ব, এগুলো মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছি।”
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার।
সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কাজ অনেকদূর এগিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিষ্ঠান যখন পুরোদমে কাজ শুরু করবে, তখন সমুদ্রের সম্পদ উন্নয়নের কাজে লাগবে।
প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, “কোনটা বড়, কোনটা ছোট- সেটা কথা না। সকলে মিলে কাজ করলে আমরা এগিয়ে যাব।
“আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সকলে মিলে কাজ করলে ২০২১ সালে আমরা বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে পারব।”
১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার কোনটারই ধারাবাহিকতা ছিল না বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
“আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। আমাদের এখানে একটা সরকারের যখন পরিবর্তন হয়, তখন চিন্তা চেতনারও পরিবর্তন হয়।”
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হওয়ায় গত সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি চলমান থাকার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
“যে অগ্রগতি করেছি, তা এগিয়ে নিতে পারব।”
বাংলাদেশের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহের গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে এজন্য একসাথে কাজ করার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “দেশ এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। আমি নির্ভেজাল সাহিত্যের ছাত্রী। তবে আমি বিজ্ঞানীর স্ত্রী। আমি বুঝি, সবক্ষেত্রে বিজ্ঞান প্রযোজ্য।”
জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ও বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক তৈরির লক্ষ্যে ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীণ বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন সাইন্স অ্যান্ড আইসিটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে এযাবৎ বিদেশে এমএস ও পিএইচডি কোর্সে মোট ৯৪ জন এবং দেশে পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর কোর্সে মোট ১০১ জনকে ফেলোশিপ দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের মধ্যে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ দেয়ার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করতে ১৯৯৬ আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় বলেও প্রধানমন্ত্রী বলেন।
“শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন। গবেষণা একান্তভাবে প্রয়োজন।”
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং তথ্য প্রযুক্তি একই মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তথ্য প্রযুক্তি কোনো এই মন্ত্রণালয়ে ছিল জানি না। তথ্য প্রযুক্তি টেলিকমিউনিকেশনন্সের সঙ্গে থাকা উচিত।”
সভার শুরুতেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বক্তব্য রাখেন। ওই মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার